ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালন

  • শহীদুল ইসলাম মামুন:
  • ২০২৪-০৭-০২ ১৫:০১:৪৩
image

বাংলাদেশ পল্লীবিদ্যু বোর্ড ও পল্লীবিদ্যু সমিতি এক ও অভিন্ন সার্ভিস কোড বাস্তবায়ন, মালামাল ক্রয়ে দুর্নীতি বন্ধ ও পদায়নের বৈষম্য সহ বিভিন্ন দাবীতে সারাদেশের ন্যায় ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রেখে  মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেছেন। 
মঙ্গলবার সকালে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ভবনের সামনে কর্মবিরতি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মবিরতী অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন সোনাগাজী জোনাল অফিসের ডিজিএম বলাই মিত্র। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ফেনী সদর দপ্তরের ডিজিএম  ইউসুফ আলী, দাগনভূঞা জোনাল অফিসের ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলম, ছাগলনাইয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জানে আলম, পরশুরাম জোনাল অফিসের ডিজিএম সনৎ কুমার ঘোষ, ফুলগাজী জোনাল অফিসের ডিজিএম ইকবাল মাহদী। 
এতে উপস্থিত ছিলেন সহকারি জেনারেল ম্যানেজার রাজিব সরকার, আবু তৈয়ব,  আকাশ কুসুম বড়ুয়া, আহসান হাবীব, রাসেদুল ইসলাম, মোঃ ইলিয়াস, মবিনুল হক, মনিরুজ্জামান, আনিছুর রহমান সহ সকল এজিএম, সহ:এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর,সকল ডিপ্লোমা প্রকৌশলীবৃন্দ, ওয়্যারিং ইন্সপেক্টর, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, সকল পিউসি, সকল লাইনক্রুগণ , বিলিং সহকারী ও বিলিং সুপার ভাইজার এবং সকল মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার (পিসিএম/এমসিএম) উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) মধ্যকার বৈষম্য দূরীকরণসহ অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে সারাদেশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্যবদ্ধ হয়ে পালন করছে।
অফিস সূত্র জানায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দেশের প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে (৮০ শতাংশ) বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বিআরইবি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এসব সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রতিনিয়ত নানান বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বক্তরা আরও বলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল সমূহ ক্রয় করেন আর ই বি , যা খুবই নিম্ন মানের।
এই নিম্ন মানের মালামাল ক্রয়ের কারণে গ্রাহক হয়রানী বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসকল নিন্ম মানের মালামালের কারনে বর্তমানে বজ্রপাতে অসংখ্য ট্রান্সফরমার নিমিষেই বিনষ্ট হচ্ছে। এতে সরকারের কোটি টাকা নষ্ট করছে।
একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও পদ, পদবি, পদোন্নতি, বেতন গ্রেড, সাপ্তাহিক ছুটি, একই প্রতিষ্ঠানে একই পদে নিয়মিত এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, লোকবলের স্বল্পতাসহ সব ক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার সমিতির কর্মকর্তা হবং কর্মচারীগন। এসব বৈষম্যের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। বরং এসব ন্যায় সংগত অধিকারের কথা বললেই নানাভানে হয়রানি শিকার হচ্ছেন কর্মচারীরা।
এসকল বিদ্যমান বৈষম্যগুলো দূর করে বাপবিবো এবং পবিস একই সার্ভিস কোড পরিচালনা করা, সকল চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদেরকে নিয়মিতকরণ, ৫ শতাংশ প্রনোদনা জুলাই-২৩ হতে কার্যকর, ২০১৫ সালের পে- জুলাই-১৫ হতে সমধাপে কার্যকর, ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল ভাতা, ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম/ডিষ্টারবেন্স এলাউন্স, চিকিৎসা ভাতা, অডিটের নামে হয়রানি না করাসহ সরকার প্রদত্ত সকল সুযোগ-সুবিধা বিআরইবির ন্যায় সমিতির জন্যও বাস্তবায়নের দাবী করেন।