চাঁপাইনবাবগঞ্জে গুলি,ককটেল ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে আ’লীগ নেতা জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যানসহ নিহত ২.

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-০৬-২৯ ০২:১৪:০৩
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়  এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রæতার জেরে প্রতিপক্ষের গুলি,ককটেল ও ধারাল অস্ত্রের হামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১  ও শিবগঞ্জের নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম (৪৫) ও তার বন্ধু নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের  শিক্ষক আব্দুল মতিন (৫৫) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একই ঘটনায় আহত হয়েছেন সালামের সহযোগি আব্দুর রহিম বাদশাহ(৪২) ও নিহত মতিনের ছোটভাই আব্দুস সালাম টিটো(৪২)। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হতাহতদের স্বজন,আহত,পুলিশ,হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,গত বৃহস্পতিবার (২৭জুন) রাত পৌন ৯টার দিকে নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রানীহাটী কলেজ মোড়ে গুচ্ছগ্রামের নিকট একটি চায়ের দোকানের পেছনে মাঠে বসে নিহত সালাম ও মতিনসহ ৪/৫ গল্প করার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এতে সালাম ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। বোমা ও গুলির পর বিশেষ করে মুখমন্ডল ও বুকে কুপিয়ে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া তাঁর বুকে গুলির মত একটি চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। এসময় মতিনকে মাথার পেছনে ও বামপায়ের হাঁটুর উপর দুটি গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে রাত সাড়ে ৯টার পর জেলা হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় রহিম বাদশাহ ও টিটো ককটেলের স্পিলিন্টারের ক্ষত নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে  বাঁচেন। এদিকে ঘটনার পরপরই সোনামসজিদ মহাসড়কে টায়ার জ¦ালিয়ে ব্যারিকেড দেয় সালাম সমর্থকরা। পুলিশ দ্রæত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
নিহত সালাম নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের মোড়লটোলা গ্রামের মৃত এত্তাজ মন্ডলের ছেলে। নিহত মতিন ও আহত টিটো এই ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। আহত রহিম বাদশাহ নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের পাশর্^বর্তী সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ভাগ্যবানপুর গ্রামের মৃত ইস্তামের ছেলে। হামলায় অজ্ঞাত পরিচয় ২০/২৫ জন লোক অংশ নেয়  বলে জানা গেছে। এই ঘটনার জন্য নিহতদের স্বজন,সমর্থক  ও ঘটনায় আহতরা নয়ালাভাঙ্গা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা  বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আশরাফুল আলম ও তার লোকজনকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি সালাম ও আশারাফের দ্বন্দ দীর্ঘদিনের। তাদের দুটি গ্রæপ বিবাদমান।
এছাড়া নিহত সালাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদের অতি ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এর আগে গত ২৪ মার্চ রাতে জেলা শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে মহারাজপুর এলাকায় সালামের চলন্ত প্রাইভেটকারে একাধিক ককটলে নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কারটি সম্পূর্ণ বিধস্ত হলেও কারে থাকা সালাম,রহিম বাদশাসহ ৫জন সামাণ্য আহত হলেও অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পান। ওই ঘটনায় সদর থানায় আশরাফ চেয়ারম্যানসহ ২২ জনের নামে মামলা করেন সালাম। পুলিশ ওইরাতে অভিযানে ২৬টি ককটেল উদ্ধারসহ কয়েকজন আসামীকে গ্রেপ্তার করে। এর পরেও একবার সালামের বাড়ি ঘোরও করে হামলার ঘটনা বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
জেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিম ইখতিখার জাহান  গুলির কারণে  অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মতিনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আহতদের অবস্থা প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীল। তবে স্পিলন্টার বের করতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী পাঠানো হয়েছে। সালামের মরদেহ জেলা হাসপাতাল মর্গে আনা হয় রাত ১২টার দিকে। এদিকে হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসে হাসপাতালে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান। তিনি বলেন, ঘটনার কারণ উদঘাটন এ জন্য দায়িদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে ঘটনার পর থেকেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে।
শুক্রবার(২৮মে) বিকালে শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক(তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঘটনায় ব্যাপারে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীণ। পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি। রাতে ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা,একটি চ্ইানিজ কুড়াল ও বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ বিশেষ আলামত হিসাবে জব্দ হয়েছে। ডিবি,সিআিইডি,পিবিআই,র‌্যাবসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো  ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে ময়নাতদন্তের পর  শুক্রবার বিকালে নিহতদের জানাজার নামাজ শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার জন্য দায়িদের বিচার দাবি করেছেন নিহত সালমের ছেলে সিফাত, ভাতিজা রনি, ভাগিনা আল আমিন, নিহত মতিনের বোন,জেলা পরিষদ সদস্য কবির খান সহ এলাকাবাসী ও আ’লীগ নেতাকর্মীরা। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে মোতায়েন রয়েছে।