সরকার আম রপ্তানী বৃদ্ধিতে সব চেষ্টাই করছে-কৃষিমন্ত্রী

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-০৬-২৭ ২১:৫৪:০১
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
কৃষিমন্ত্রী ড.মো: আব্দুস শহীদ এমপি বলেছেন, আমরা তো আম রপ্তানী বৃদ্ধি ও এ সংশ্লিষ্ট শিল্প স্থাপনে চেষ্টা করেই যাচ্ছি। বিদেশীরা এবার নিজেরাই বাগানে এসে নিজেরাই দেখে সিদ্ধান্ত নিক বাংলাদেশের আম আমদানীর ব্যাপারে। তারা বাগান ঘুরে উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখুক,স্বাদ ও গন্ধ বিচার করুক এবং চাহিদামত আম নিয়ে যাক। তিনি আরও বলেন, বিদেশীরা বাংলাদেশের আমের ব্যাপারে অভিভূত। আশা করা যায়, এ ধরণের সফরের পর আম রপ্তানী বহুগুন বাড়বে। নিজেরা বাগান দেখার পর তারা এই আমের ব্যাপারে উৎসাহিত হবেন। মন্ত্রী বাংলাদেশী আমের ব্রান্ডিং নিয়ে কাজ করার কথা ও সরকারের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, দেশের সুমিষ্ট আমের প্রচার বাড়লে রপ্তানীও বাড়বে। তিনি সুমিষ্ট আমের প্রশংসা করেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন,শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সকল ধরণের দূর্ণীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এই সরকার পূর্বে যেমন এ ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে ছিল বর্তমানেও তেমন শক্ত অবস্থানেই রয়েছে।  প্রসঙ্গক্রমে মন্ত্রী নাচোলের রানীমা খ্যাত সংগ্রামী ইলা মিত্রের কথাও উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৭জুন) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের কেন্দবোনা গ্রামে চলতি বছর এআইপি (এগ্রিকালচারাল ইমপর্টান্ট পার্সন) হিসেবে মনোনিত আমচাষী ও রপ্তাীকারক রফিকুল ইসলামের গ্যাপ (গুড এগ্রিকালচাল প্রকটিস বা উত্তম কৃষি চর্চা) অনুসরণ করে পরিচালিত  আলট্রা হাই ডেনসিটি (ঘন  করে লাগান ছোট  আকৃতির গাছের বাগান) আমবাগান পরিদর্শককালে প্রেস ব্রিফিং-এ মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি,স্থানীয় এমপি জিয়াউর রহমান,কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার,পররাষ্ট সচিব মাসুদ বিন মোমেন,৯টি দেশের রাষ্ট্রদুত ও কুটণীতিক,৪টি দেশের উপ-রাষ্ট্রদুত ও কুটনীতিক,জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান,জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খান, পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান সহ  সংশ্লিস্টরা।
ব্রিফিং-এ বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন,কৃষির উৎপাদনের শেষ যেখানে বানিজ্যের শুরু সেখানেই। বিদেশেই বাংলাদেশের কোটি মানুষ রয়েছেন। তাদের আমের চাহিদা রয়েছে। ২৩টি দেশে বাংলাদেশের ট্রেড কাউন্সিলররা আম রপ্তানীতে কাজ করবেন। সফরের পর বিদেশীরার এ দেশের আম নিয়ে উৎসাহিত হবেন। বানিজ্য প্রতিমন্ত্রীও আমের ব্রান্ডিং নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, উৎপাদন,প্যাকেজিং, সার্টিফিকেশন ইত্যাদি ধাপ পেরিয়ে রপ্তানী হয়। কাজটি সহজ নয়। ভিন্ন ভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা  ও মান চায়। এগুলি লক্ষ্য করতে হয়।
ব্রিফিং-এ পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রপ্তানীর সাথে কৃষি,বানিজ্য ও পররাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়ের যোগসূত্র রয়েছে। সে কারণেই তিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিদেশীদের নিয়ে একসাথে পরিদর্শণে এসছে। আশা করা যায়, এ সফর ভবিষ্যতে কাজে আসবে। দেশের আম রপ্তানী বাড়বে।
ঢাকা থেকে চাটার্ড বিমানে  রাজশাহী হয়ে দুপুর ১টার দিকে নাচোলের বাগানে পৌঁছেন প্রায় শতাধিক সফরকারী। বাগান  পরিদর্শণের পর বিভিন্ন কুটনীতিক ও ফাও প্রতিনিধি তাঁদের উচ্ছাস  অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা গাছে ঝোলা আম নেড়ে চেড়ে দেখেন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন ও অভিভূত অনূভূতি প্রকাশ করেন।