আ র্য উ বা চ

  • সাধারণ
  • ২০২৪-০৬-১৯ ১২:৫৫:৩০
image

দেখুন দাদা, আমার সন্তান একেবারেই সাধারণ।
কখনো ফেল করেনি ঠিকই, কিন্তু যেসব নম্বর জনসমক্ষে বলা আজকাল বারণ,

সেরকম পায়, মানে ওই ষাট থেকে আশি। 
নব্বই হবে আগামীতে তার নই প্রত্যাশী, 
কারণ আমি তো জানি , 
সন্তানটি আমার অতি সাধারণ।
তবে কি জানেন, টিউশনি বাড়াইনি তবু অকারণ, 

কারণ আই আই টি বা নিট, 
যত করি খিটখিট,
ওতে ওর জায়গা হবে না,
আশাতে লগ্নী করে সময়ের কাছে 
শুধু থেকে যাবে দেনা। 

তাই বলে, ভাববেন না বোকাহাবা। 
কিঞ্চিৎ বই পড়ে, দিব্যি খেলতে পারে 
ক্যারম আর দাবা, 
আশেপাশে কি হচ্ছে সে খবরও রাখে,
দেখেছি খাওয়াতে ছোটে সে 
মা হারা কুকুরবাচ্চাকে, 
পাড়ার নেড়িগুলো ওকে দেখলে 
ল্যাজ নাড়া চায় না থামাতে,

তবে এসবই সাধারণ খুবই, 
মানুষকে ডেকে ঠিক বলা যায় না।
মানে ও তো ক্যারম বা দাবা চ্যাম্পিয়ন নয়, 
খ্যালে ভালোবাসে বলেই বোধহয়, 
পশুপ্রেমী কোনো সংগঠনের নয় কর্ণধার, 
এমনিই যত্ন করে সে কুকুরছানার।

একেবারেই সাধারণ আমার সন্তান । 
খেলাধুলা করে বটে, 
সখ করে শিখে 
বাবু গিটারও বাজান,
আবার ভাববেন না যেন স্কুল টিমে খেলে,
ধুলো কাদা মেখে ফেরে রোজই বিকেলে,
তবুও খেলাতে সে এমন কিছু না, 
না হবে ঝুলন গোস্বামী, না মারাদোনা, 
গিটারেও বাজাবে না কঠিন রাগিণী
মোট কথা, আগামীর  তারকা 
সে নয় কোনোদিনই, 
স্রেফ ‘মোটামুটি’ হয়ে থেকে যাবে কৈশোর পেরিয়ে আজীবন,
বলছি তো, সম্তানটি আমার দাদা খুবই সাধারণ।

তবে কি জানেন, 
ওর মা’র জ্বর হলে জাগে সারারাত,
কিছুই করতে পারে না 
তবু মাথায় বোলাবে হাত, 
টুকটাক করে আনে দোকান বাজারও,
মুড হলে করে কত গল্প হাজারো,
ওর হাসি কাঁদা সুখ বিষাদ অসুখ,
খুনসুটি  ভালবাসা আর ভুলচুক, 
তাই দিয়ে আমাদের গোটা সংসারখানা
আলো হয়ে থাকে, 

আগামী আজ-এর কাঁধে বিশ্বাস রাখে,
ঘোর ক্লান্তি আর তুমুল অশান্তিতে 
ওর মুখ দেখলেই স্থির হয় মন।
তাই স্টেজে বন্ধুরা ওঠে, 
ও বসে হাততালি দিচ্ছে যখন,
আমি ওর পিঠে হাত রাখি । 
আমারই মতন ও খুব সাধারণ।

সত্যি বলছি দাদা, খুবই সাধারণ।