কোম্পানীগঞ্জে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

  • ইমাম হোসেন খাঁন :
  • ২০২৪-০৬-১৪ ২৩:৩২:২২
image

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী  ইউনিয়নে স্বামীর পরকীয়ার জেরে স্ত্রী আমার ফারজানা আক্তারকে (২২) হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে৷ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জহিরুল ইসলাম পলাতক রয়েছে।
শুক্রবার সকালে ৭ নং ওয়ার্ড চর কলমি গ্রাম থেকে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফারজানা আক্তার ওই গ্রামের জহিরুল ইসলামের স্ত্রী ও সুবর্ণচর উপজেলার চরবৈশাখী গ্রামের বশির উল্যাহর মেয়ে।
নিহতের বাবা বশির উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, গত ৫/৬ বছর আগে চর কলমি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের বড় ছেলে জহিরুল ইসলামের সাথে ফারজানাকে বিয়ে দেন৷ জহির স্টিল আলমারির ব্যবসা করে৷ এর আগেও ব্যবসার সুত্রে একাধিক মহিলার সাথে জহিরের পরকীয়ার ঘটনা ঘটে৷ তা পারিবারিক ভাবে সামাধানের চেষ্টাও করি আমরা৷
বশির উল্যাহ আরও বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মেয়ে ফারজানা বলেছেন জহিরের মোবাইলে  একটি মেয়ের সাথে যৌথ ছবি দেখে সে।  এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়৷ পরে বশির উল্যাহ ও তার ছেলে খবির উদ্দিন এসে স্বামী-স্ত্রীকে দুজনকে মিলিয়ে দেন৷
নিহত ফারাজনার বড় ভাই খবির উদ্দিন বলেন, জহিরের একাধিক পরকীয়ার ঘটনা তারা সমাধান করেছেন৷ গতকালও তারা বিষয়টি সামাধানের চেষ্টা করেছেন৷ কিন্তু তার বোন তাদেরকে জানানোর কারনে জহির বৃহস্পতিবার  রাতে তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে৷ এমনকি তার বোনের মৃত্যুর খবরও তাদেরকে দেয়া হয়নি৷ পাশের বাড়ির জয়নাল মিয়া মৃত্যুর ২ঘন্টা পর খবর দিলে তারা এসে ফারজানাকে বিছানায় মৃত অবস্থায় পেয়েছেন৷
অভিযুক্ত জহিরের বাবা সিরাজুল ইসলাম তার ছেলে ও পুত্রবধূর দীর্ঘ দিনের ঝগড়ার কথা স্বীকার করে জানান,  তার প্রথম স্ত্রী মৃত্যুর কারনে তার ছেলেরা তার থেকে পৃথকভাবে বসবাস করেছেন৷ রাত আনুমানিক আড়াইটার সময় জহির তার ঘরে চিৎকার দিতে থাকলে তারা গিয়ে  এবং ফারজানাকে ঘরে সিলিংয়ের সাথে ঝুলে থাকতে দেখেন৷ পরে তারা ঝুলানো থেকে নামানোর পর লোকজনকে খবর দিলে জহির দ্রুত পালিয়ে যায়৷
কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো.আবদুস সুলতান বলেন , নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।