উঠোন ভরা জ্যোৎস্না--- চরাটে বসে মধুমাসে,
নিধি হয়ে ঋষি অপেক্ষায় আছে
অথচ ভালোবাসবার মানুষ নাই; একাকি একা,
কেউ নেই কাছে ঋষির।
কেহো নাই কান্নার-ভূপতির সাথে
গপ করবার কেউ নেই!
অথচ আসমানসম জমিন-ময়দানভরা শস্য,
খাওয়ার মানুষ নাই, দেখার কেউ নেই!
অথচ সবই আছে, দূরে স্বজন-আত্মীয়,
কাছে কেবল এক প্রাণী, কথা কইবার নাই জানি,
দাবরাইয়া চলে সে, দৌড়ে চলে যায় আঁধারে।
মানুষ আর অমানুষের তফাৎ খোঁজে ঋষি,
উত্তর উঠে আসে, আপনজনের কাছে
আঁকড়ে থাকার মানেই আত্মার শুচিতা,
আর দূরে চলে যাওয়া মানে ভূপতিরে
কান্দাইয়া যাওয়া, স্বজন ছেড়ে থাকা স্বজনরা ---
কতোটা সুখী, কতোটা স্বাধীন;
পুকুরের চরাটে বসে ভাবে ঋষি!
জল শুকোয় কাইন্দে পেত্তেক রাতে,
দেখবার কেহো নাই, দেখে নাই কেউ!
ভূপতির ফল পঁচে যায় পাখিও না খায়
আহত আত্মার শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ঋষি?
উত্তরাধিকার নিরাপদ থাক, এ-ই ভাবনায় কতো
উপার্জন,যতো আয় করলো সে, সন্তান ভালো থাকবে, এই ভরসায় ভুল আর ফুল এক করে ফেলেছিল ভূপতি!
অথর্ব ভূপতির সুখ আজ একা, ভরা পুর্ণিমায়, অমাবস্যায়।
দিন রাত একঘেয়ে পার হয়ে যায়!
বারবুরিভরা জ্যোৎস্না, তবু ভূমিপুত্র খোঁজে!
না চায় ছাড়তে আঙুল, বাইন্দে রাখবার চায়,
তবু ছাইড়া যায়,তারপরও সুখে থাক তারা,
এই প্রার্থনা তার !
ঋষি ও ভূপতি মুখোমুখি আলোচনাঅন্তে কয়,
কেবল মরবার কালে আসে, দল বাইন্দে আসে,
কোরাস কান্নায় সর্বনাশের সর্বনাম ভাসিয়ে
তারা আসে, উত্তরাধিকারের সনদের আশায়,
তাদের কোরাস কান্নায় সর্বনাশা সুর ভাসে!
অতিথি অতঃপর নিশানা উড়িয়ে দিয়েছে
বিষহীন বিশুদ্ধ বাতাস দেবদারু শরীর বেয়ে
ক্ষণিক বিদ্রোহী হয়ে ভূমিতে নামবার চায়,
নামতে না পারে সে-দু'কদম বসে,
ভালবাসা দিওয়ার লাগি,আঁচলভরা জ্যোৎস্না
লগে লয়ে আসে।
অবসরপ্রাপ্ত পিতা-মাতা অয়োষ্কান্ত সময়ে
বিদায় জানায় নাড়িছেঁড়াধনরে, অান্ধার রাত
স্বাক্ষী রয়, নারিকেলগাছ গোঙরায় কেবলই,
অয়োময় পরিবারে দেখবার কেহো নাই-কেউ দেখে নাই অয়োমুখ,
নিসর্গে নোঙর ফেলেছে ভূপতি,
কেবলই নিজের উজাড় করা,নিঃশব্দে নিঃস্ব হওয়া কেউ দেখেনি,
কেউ বোঝেনি অসহায় ভূপতিরে, কেউ বোঝেনা কারো,ঋষিয়ো পারেনি বুঝবার!