বাস চলাচলে স্বস্তিতে চালক-হেলপাররা

  • এম এইচ নাঈম
  • ২০২১-০৫-০৫ ১৬:১২:৪৫
image

সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ অনুযায়ী গত ২২ দিন ধরে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্ট্যান্ডে/টার্মিনালে বা সড়কের পাশে অনেকটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল এসব গণপরিবহন।


বাসগুলোর পাটাতন, সিট ও গ্লাসে ধুলোর আস্তরনে অনেকটাই ধূসর বর্ণে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ মে) দেশের জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন  চলাচলের খবরে বাস চালক এবং হেলপারদের স্বস্তি ফিরেছে।

রাজধানীর সড়কগুলোতে আবারও বাস চলাচল করবে সেই লক্ষ্যে স্ট্যান্ড/টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞ বেড়ে গেছে। সবাই নিজেদের বাসগুলো পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুধু তাই নয় বুধবার দুপুর থেকে পরিচ্ছন্নতার কাজ করলেও সন্ধ্যায় চালক এবং হেলপারদের কে কোন বাস নিয়ে সড়কে বের হবেন তা বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ করছেন বাস কোম্পানির সুপারভিশনের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজাররা।  
করোনা সংক্রমণ রুখতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত ‘লকডাউন’ তথা বিধি-নিষেধ অনুযায়ী রাজধানীসহ সারাদেশেই গণপরিবহন ও দুরপাল্লার সব পরিবরহনের চলাচল বন্ধ রাখা হয়। টানা ২২ দিন পর সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৬ মে) থেকে শুধুমাত্র জেলার ভেতরে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত দূরপাল্লার গণপরিবহনের সঙ্গে লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপন বলা হয়, আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে ৫ মে’র পর যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন সাপেক্ষে জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল আগের মতোই বন্ধ থাকবে।

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, লকডাউনে দীর্ঘদিন বাস বন্ধ ছিলে। গত ২২ দিন শুধু শুয়ে-বসে সময় পার করা ছাড়া তাদের কোনো কাজ ছিল না। তবে কেউই মানসিকভাবে স্বস্তিতে ছিলেন না। জীবিকার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পুরো সময় কেটেছে তাদের। বৃহস্পতিবার বাস চলাচলের সংবাদের স্বস্তি ফিরেছে বাস চালক এবং হেলপারদের।

বুধবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর এলাকায় (তুরাগ নদীর পাড়ে) থাকা বাস স্ট্যান্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, স্ট্যান্ডে অসংখ্য বাস রয়েছে। চালক ও হেলপারসহ পরিবহন শ্রমিকরা বন্ধ থাকা এসব বাসগুলো চলাচলের জন্য প্রস্তুত করতে ব্যস্ত। কেউ বাসের ভেতরে কেউ আবার বাইরে ঘষামাজা করে পরিষ্কার করছেন। কেউ বাসের চাকা মেরামত করছেন আবার কেউ ইঞ্জিনের কাজ করছেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে চালক বাসের ইঞ্জিন চালু দিয়ে দেখছেন, ইঞ্জিনের কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করছেন। আবার অনেকে বাসে রং করতে ব্যস্ত রয়েছেন। গণপরিবহন চালুর খবরে শ্রমিকরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এদিকে দুপুর থেকেই সন্ধ্যা অবদি সুপারভাইজাররা চালক-হেলপারদের ডিউটি বন্টনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
      

আব্দুল্লাহপুর-টু-গুলিস্তান/চিটাগং রোড পর্যন্ত চলাচলকারী মনজিল এক্সপ্রেসের বাসের চালক মো. লিটন মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, আমরা পরিবহনে যারা কাজ করি, তারা দিন আনি দিন খাই। আমাদের কোনো জমানো টাকা নেই। কাজ করলে পেটে ভাত আছে। কাজ না করলে পেটে ভাত নাই। লকডাউনে ২২ দিন ধরে বাস বন্ধ। এদিনগুলো অনেক কষ্টে পার করেছি।