অ র্চ না মা লা কা র

  • শেষ ইচ্ছে
  • ২০২৪-০৪-০৬ ১০:৩৭:৫৪
image

মৃত্যু যখন শিয়রে---
সে জানতে চাইলো শেষ ইচ্ছে! 
ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে মনে মনে বলি--
চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে কখনো কী জানতে চেয়েছ
আমার পছন্দের খাবার কী, রঙ, আমার শখ কী?  
জানি উত্তর দিতে  পারবে না। 

সংসারের দায়িত্ব কর্তব্য পালনে কখন সময় ফুরিয়ে গেল
বুঝতে পারিনি, 
যৌথ পরিবারের সকলের মন জুড়িয়ে চলা, চাকুরি 
সন্তান লালন পালন ইত্যাদি 
এই তো নারীর জীবন। 
তারপর চাকুরি করতে গিয়ে  শ্বশুর - শাশুড়ির  সাহায্য পাওয়ার  প্রেক্ষিতে নিজের দায়িত্ব আরো একটু বাড়িয়ে 
দেওয়া, 
কিছু না দিয়ে পাওয়ার  আশা  মুর্খতার সামিল। 
এভাবেই  সুখ শান্তিতে কেটে গেল এতোগুলো বছর ।
 
তারপর চাকুরি থেকে অবসরের ঘন্টা বেজে উঠলো, 
ভাবলাম এবার বুঝি ঝামেলা মুক্ত। 
না চাকুরি অব্যহতি দিলে-ও সংসার দিলো না,
এবার শাশুড়ি হলাম -- নাতি পুতির সেবা যত্ন, 
নিজে চাকুরি করতে গিয়ে  যেসব সমস্যা ভোগ করেছি 
চাইনা বৌমা সে সব কষ্ট ভোগ করুক সুতরাং ---।

এভাবেই জীবনের শেষ দিন হাজির হয়ে এলো --
দেনা -পাওনার হিসেব নিকেশ মহাজনের হাতে। 
কবিতার খেরোখাতা খাতাটিও শূন্য ---
অভিমানী কবিতা মুখ লুকিয়ে রেখেছে । 

চোখের কোলটা শিরশির করে উঠলো 
আস্তে করে বললাম -- কিছুই নেই, সব পেয়েছি। 
হয়তো শেষ সময়েও আর একটা মিথ্যে বললাম, 
আশীর্বাদ করো পরপারে যেন ভালো থাকি। 
ক্ষমা করো। 
চোখ বন্ধ হয়ে এলো ----।