গাজায় সাত ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় দুই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে ইসরাইল

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৪-০৪-০৬ ০৯:৫৮:২৬
image

ড্রোন হামলায় ফিলিস্তিনের গাজায় সাত ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় দুই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে ইসরাইল। মিত্রদেশ আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ঘটনার তদন্তের পর ইসরাইলের সামরিক বাহিনী শুক্রবার (৫ই এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বরখাস্ত হওয়া দুই সেনা কর্মকর্তারা হলেন, ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর কর্নেল পদমর্যাদার ব্রিগেড চিফ অব স্টাফ এবং অপরজন মেজর পদমর্যাদার ব্রিগেড ফায়ার সাপোর্ট অফিসার। এছাড়াও হামলা ও মৃত্যুর ঘটনায় ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধানসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করেছে তেল আবিব। এছাড়া অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তারা।
যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে তাতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তারা আরও জানিয়েছে, তাদের একটি ড্রোন ত্রাণকর্মীদের একটি ব্যাগকে অস্ত্র হিসেবে ভুল করে একটি গাড়িতে হামলা চালায়। পরে ওই গাড়ির দুজন ব্যক্তি দ্রুত আরেকটি গাড়িতে গিয়ে উঠলে ড্রোন থেকে দ্বিতীয় গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এরপর দ্বিতীয় গাড়ির ব্যক্তিরা তৃতীয় গাড়িতে আশ্রয় নিলে সেটিতেও হামলা চালানো হয়। এছাড়া ওই গাড়িগুলোতে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন নামের দাতব্য সংস্থার যে স্টিকার ছিল তা ড্রোনের মাধ্যমে দেখা যায়নি। 
গত সোমবার (পহেলা এপ্রিল) গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল বালাহ এলাকায় ইসরাইলের ড্রোন হামলায় দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাতজন বিদেশি ত্রাণকর্মী মারা যায়। ওই হামলার পরে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। ইসরাইলের মিত্রদেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এ হামলার কড়া সমালোচনা করেন ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ফোনে কথা বলেন। এসময় নেতানিয়াহুকে বাইডেন সতর্ক করে বলেন, বেসামরিক লোকজনের সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ইসরাইলকে অস্ত্র ও সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ইসরাইলের তদন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইসরাইলের সকল পদক্ষেপ ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে ওয়াশিংটন।