"সড়ক পরিবহন আইনের ১২টি ধারায় অপরাধের শাস্তি এবং আটটিতে জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়েছে

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৪-০৩-১৩ ২১:১০:২৮
image

বুধবার (১৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের জন্য চালক ও তার সহকারীদের জেল-জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনে সায় দিয়েছে সরকার।ফলে সড়ক পরিবহন (সংশোধন) আইন, ২০২৪ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "সড়ক পরিবহন আইনের ১২টি ধারায় অপরাধের শাস্তি কমানো হয়েছে। আটটিতে জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়েছে।
“সড়ক পরিবহন আইনের তিনটি ধারার অপরাধ অজামিনযোগ্য ছিল। এখন একটি ধারার অপরাধকে অজামিনযোগ্য রেখে অন্যগুলোকে জামিনযোগ্য করা হয়েছে।”
এ আইন পাস হলে শুধু দুর্ঘটনায় মারা গেলে বা গুরুতর আহত হলে তা অজামিনযোগ্য অপরাধ হবে বলে বিধান রাখার কথা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, কারিগরি নির্দেশ না মানলে এতদিন তিন বছর জেল দেওয়ার বিধান ছিল। এ অপরাধের সাজা আগের মতো রাখা হলেও এক্ষেত্রে অজামিনযোগ্য থেকে জামিনযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে খসড়ায়। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রহীনভাবে বা অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে গাড়ি চালানোর পর দুর্ঘটনা হলে সেটিকে অজামিনযোগ্য থেকে জামিনযোগ্য অপরাধের বিধান রাখা হচ্ছে।
এর আগে বেপরোয়া মোটরযানের কবলে পড়ে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজার বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ সংসদে পাস হয়। তখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে চালকের সাজা দুই বছর বাড়িয়ে আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার।
তবে আইনটি প্রণয়নের পর থেকে এটির প্রবল বিরোধিতা করে আসছিল পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনার মামলায় নতুন আইনে শাস্তির মাত্রা ‘অযৌক্তিক’ বেশি। পরে তা সংশোধনের ইঙ্গিত আসে সরকারের পক্ষ থেকে।
এবার তা সংশোধনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভার সায় পেল। এরপর তা আইন প্রণয়নের কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংসদে পাস করা হবে।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "২০১৮ সালে এই আইন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর নেতৃত্বে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল এই আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে আইন সংশোধন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় মারা গেলে বা গুরুত্র আহত হলে তা অজামিনযোগ্য অপরাধ হবে।