না স রী ন জা হা ন

  • আমি নিজের যোগ্যতায় এই অব্দি এসেছি
  • ২০২৪-০৩-০৫ ২২:৪৬:১৫
image

আমি নিজের যোগ্যতায় এই অব্দি এসেছি।
ফলে আমার নিজের মধ্যে একটা জোর কাজ করে সত্য কথা বলার। কিন্তু মাত্রা ছাড়িয়ে না গেলে আমি সবার সব অবিচার,সবার সব সত্য আমি প্রকাশ করি না।
আমি মনে করি লেখকদের নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি। 
স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ আমি কোন দলবাজ করিনা।
কোন শত্রুও বলতে পারবে না,আমি লবিং করি।

আমি প্রচুর সহ্য করে এক পর্যায়ে কিছু সত্য বলতে বাধ্য হই।
এতে অন্যান্য প্রকাশক আমাকে ভুল বুঝলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

দুটো ঘটনা ডিটেইলে বলছি,আমার উপন্যাস উড়ুক্কুর 
পর পর চন্দ্রের প্রথম কলা নামের নীরিক্ষাধর্মী একটা উপন্যাস বের হয়।
১৯৯৭ সালে। সন্দেশ প্রকাশনী নামের একটা শাহবাগের প্রকাশনা সেই বই বের করেছিল।

যতবার শাহবাগে গেছি,শুনেছি,এত জটিল বই,আপা বিক্রি তো হয় না।
জটিল বই করতে আমি চাপ দিয়েছিলাম?নিজে উঠেপড়ে পান্ডুলিপি নিয়ে গিয়েছিল।

বিক্রি হয় না,এমন অসহায় অবস্থা থেকে বাঁচতে সন্দেশে যাওয়া ছেড়ে দিই।

আজ সম্ভবত ২৭ বছর, সেই বই সন্দেশ কী শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে এখন নেই?  অন্তত ১৫বছর আগে যখন শাহবাগে ঘুরতাম , তখন একবার গিয়ে  চকচকে কভারের প্রথম এডিশন দেখে এসেছিলাম।

আমাকে কোন সম্মানী দেয়া হয়নি।
২০০৭সালে হুমায়ুন কবীর ঢালি নামে একজন বাংলা প্রকাশ থেকে এসে আমার নিজের সবচেয়ে পছন্দের গল্পের বই আশ্চর্য দেবশিশু আর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কিশোর উপন্যাস দৈত্য আর সাহসী ছেলের গল্প   এজন্য টোকেন মানি দিয়ে চুক্তিবদ্ধ করিয়েছিলেন।

নিজের বই বিক্রি হয় না,এমন করুণ অনুভবে আজ ১৬ বছর এই বইয়ের খোঁজ নিইনি।
যখন হুঁশ হল,শুনি ঢালি সাহেব আমাদের বই বুঝিয়ে না দিয়ে, যার স্বত্ব ছিল আমার, সে সাত বছর আগে আমার বইসহ প্রকাশনা আরেকজনের কাছে বিক্রি করে নিজে অন্য এক  নামের প্রকাশনার মালিক হয়েছেন।

এবং নতুন মালিক ১৬ বছর আগে বের হওয়া প্রথম এডিশন বিক্রি করে যাচ্ছেন।
ঢালী সাহেব বলেন,আমি ম্যানেজার ছিলাম, মালিক অন্যজন। উনি কিন্তু বাংলা প্রকাশের মালিক হয়েই আমার কাছে এসেছিলেন।
কীভাবে লেখকদের অনুমতি ছাড়া লেখকদের বইসহ একজন তার প্রকাশনা তিনি বিক্রি করতে পারেন?যেহেতু উনি চুক্তি পত্র করার সময় আমাকে এমন ভাব দেখিয়েছেন,উনিই বাংলাপ্রকাশের মালিক।

উনি বিক্রির সময় আমাকে জানানোর দায়িত্বটুকু কেন অনুভব করলেন না?
আমার সাথে এমন অবস্থা হলে অন্যদের সাথে কী হয়?
আমি এই ফাঁদ থেকে কীভাবে আমার বই উদ্ধার করে কোন ভালো প্রকাশনীর কাছে বইগুলো নতুন করে বের করার কথা বলতে পারব?

কেন শুধু লিখে যাই না?
কেন বই বের করার কথা ভাবি?

এইবার বইমেলায় বইয়ের বিক্রি দেখে এমন অনেক হতাশা উঠে এসেছে আমার ভেতর থেকে। 
আমি কীভাবে এই চক্র থেকে আমার বই ফেরত পাব?

একটা বইয়ের প্রথম এডিশন কীভাবে যুগ যুগ ধরে চলতে থাকে নতুন এডিশন না হয়ে?

কেন প্রকাশক বইটা বছর যুগ ধরে তাদের স্টলে রেখে বিক্রি করেন?
এর উত্তর কেউ দেবেন আমাকে? 
এমন স্টেটাস দিলে আমার কাছের মানুষজন বলেন,রাগ করেন কেন? 
আপা আপনাকে এসব মানায়?

আশ্চর্য! আশ্চর্য!

কই?আমি ২৭ বছর যাবত অন্যপ্রকাশের সাথে যুক্ত আছি। একসময় কথা ছিল,তাঁরা আমার সব বই করবে। কিন্তু একজন লেখকের এত বই একটা প্রকাশনা থেকে?,আমিই বলেছি কিছু বই অন্যরা করুক। তাঁরাও আপত্তি জানায়নি।
কই?তাদের সাথে তোমার আমার কোনদিন কোন দ্বন্দ্ব হয়নি?বরং তাঁরা ধীরে ধীরে আমাদের আত্মীয় হয়ে উঠেছে।
আর জীবনে আসা বড় প্রকাশনার অভিজ্ঞতা আর নাই বা  বলি। আমি চাই এই স্টেটাস তাদের চোখে পড়ুক। এবং বছর বছর সম্মানী না দেয়া বইগুলো বিক্রি বন্ধ করুক।আমি নিশ্চিয়ই সুখের অভিজ্ঞতা নিয়ে সেই প্রকাশনা থেকে বই উড়ুক্কু উপন্যাস উঠিয়ে  নিয়ে  বাতিঘরে দিইনি? 
আমার এই স্টেটাস নিয়ে অন্য ভালো প্রকাশকগণ আমাকে নিয়ে আহত হলে তাঁদের উদ্যেশে একটা কথাই বলার আছে,আমি যদি কারো অসম্মান করতে চাইতাম তাহলে ২৭ বছর 
১৬ বছর দেড় বছর সময় নিতাম না।

কেবল আমি চাই মাওলা আমার সব সম্মানী চুকিয়ে 
আপাতত বই বিক্রি বন্ধ রাখুক। এসব বই অন্য জায়গা থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে দিক।সম্মানীও লাগবে না। কারণ কত বই বিক্রি হয়,কত টাকা সম্মানী হয়,এই প্রযুক্তির যুগেও লেখকের জানার উপায় নেই।
আপাততঃ বিক্রি বন্ধ করুক।

এখন মনে হচ্ছে রথ দেখতে এসে বাঁশি বিক্রি করি, আমার  উপন্যাস সোনালি মুখোশ,যখন চারপাশের বাতিগুলো নিভে আসছে,বৈদেহী,নারীবাদী  গল্প, উপন্যাস সমগ্র এক দুই, 
আকাশে অনেক রাত(উপন্যাস)শঙ্খ নর্তকী 
(উপন্যাস)  পাঁচটি উপন্যাস ,  আর পর্যায়ক্রমে উপন্যাস কমলা সুন্দরী আর এক সন্ধ্যার কাহিনী, নিকুন্তিলা  স্বর্গলোকের ঘোড়া  মেঘের সোনালী চুল, সূর্যাস্তের শেষ রং, এরপর গল্প,সম্ভম যখন অশ্লীল হয়ে ওঠে , স্থবির যৌবন  চারটি পুরুষ রাজকুমারী।
সূর্যাস্তের শেষ রং , তিনটি মঞ্চ নাটক পাঁচটি উপন্যাস।  নির্বাচিত গল্প(গোডাউনে কিছু কপি আছে।
তারপর আর বাজারে থাকবে না।

এত এত বই বাজারে নেই।
বহু বছর। আমি তো চাইবোই বইগুলো কেউ করুক?
বড় প্রকাশকগণ বলেন আরেক বড় প্রকাশনা বের হওয়া বই তাঁরা করবেন না।

আর ছোট প্রকাশকগণ?
বই আমার অবশ্যই সন্তান নয়,বইয়ের সাথে সন্তানের তুলনা আসতেই পারে না।
কিন্তু এই স্টেটাসেই জানিয়ে দিলাম কোন কোন দায়িত্ব আপাতত আর প্রকাশনার নয়,আমার।

কিন্তু বই আমার রাত রাত ইনসমিয়া বানানো,আমাকে জীবনমৃত্যুর মাঝখানে ফেলে ফেলে জন্ম নেয়া ফসল।
আমি কারো কাছ থেকে সান্ত্বনা চাই না। কেবল এই বইগুলো এদের কাছ থেকে উদ্ধারের উপায় কী?আর ওপরের তালিকার বই যে কোন প্রকাশক আমার কাছে চাইতে পারেন। আর যারা সম্মানী দেননি, বই আঁকড়ে বছর বছর বিক্রি করছেন    
কীভাবে উদ্ধার করব নিজের স্বত্ব জানা থাকলে প্লিজ জানাবেন।