চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার বাবুরঘোন মহল্লায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব ‘পোসালু’ (আঞ্চলিক শব্দ যার অর্থ গ্রামীন বনভোজন বা পিকনিক) অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার উত্তর রহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় পূণর্ভবা নদীঘেঁষা নিজবাড়িতে উৎসবটি আয়োজন করেন। মমতাজ গত এক যুগ থেকে প্রতিবছর নিয়মিত হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীন সংস্কৃতিসমূহ নতুন প্রজন্মের নিকট তুলে ধরতে বিভিন্ন পিঠাসহ বিভিন্ন উৎসব আয়োজন করেন। ইতিমধ্যে বিলুপ্তপ্রায় লোকজ উৎসব আয়োজন করে তিনি প্রশংশনীয় হয়েছেন। তাঁর অনুষ্ঠানগুলো হয় শীতে ধান বা ফসল ওঠার সময় বা তার পরপরই। গত বছরও পোসালু উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
গত শনিবার (২মার্চ) দিনব্যাপী আয়োজিত পোসালু উৎসবে তাঁর নিজ ও আশপাশের গ্রামের অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থী,কিশোরী,তরুনী,গৃহবধু সহ স্বজন ও প্রতিবেশীরা অংশ নেয়। ছিলেন অতিথিরা। শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা নিজদের বাড়ি সহ গ্রামের বাড়ি,বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করে চাল,আলু,ডিম সহ রান্নার বিভিন্ন উপকরণ। উঠোনে মাটির চুলোতে বসানো হয় রান্না। শিশু কিশোরিরা হলদ,লাল শাড়ি পরে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। গৃহীনিরা উঠোনে বসে সিদ্ধ ডিমের খোসা ছিলার সময় গ্রামীণ গীত গায়। দুপুরে পরিবেশিত হয় গরম ভাতের সাথে ডিম আলুর তরকারি। সবাই মজা করে বাড়ির মেঝেতে সারিবদ্ধভাবে বসে খাবার খায়। এই আনন্দ উৎসবে নাচ,গান সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবশেন কলে শিশুরা। দিনটি তাদের কাছে স্মৃতিময় ও আনন্দময় হয়ে থাকে। অনেকেই উৎসাহী হয়ে অনুষ্ঠান দেখতে আসেন। অংশ নেন। উৎসবের আমেজ উপভোগ করেন। সামাণ্য খাবার আয়োজন করে সারাদিন আনন্দে কাটানো তাদের নিকট বিস্ময়ের। যারা প্রথমবার অনুষ্ঠানে আসেন তারা অবাক হন।
মমতাজ বেগম বলেন,তিনি চাণ গ্রাম বাংলার সকল সংস্কৃতিকে নতুন প্রজ¥েও নিকট তুলে ধরতে। শুরুতে এসব নিয়ে কিছু অসুবিধে হলেও এখন সকলেই সহযোগিতা করেন। শিশুরা অনুপ্রাণিত হয়। সকলের উচিক গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে চেষ্টা করা।