সে এক অভাবী সাধারণ মেয়ে,
জীবনের সাথে লড়াই করতে করতে নেমেছে পথে
যদি ঘোরে তার ভাগ্যের চাকাটা।
তাই তো ঘুরে বেড়ায় শহরের আনাচে কানাচে।
কোনোদিন একমুঠো ভাত জোটে, কোনোদিন অভূক্তও
থেকে যায়।
মাঝে মাঝে মনে হয় এত উচ্ছিষ্ট প্রতিদিন ডাস্টবিনে ফেলে
অথচ আমাদের মতো মানুষগুলো অনাহারেই থেকে যায়।
বাড়ির কাজের বুয়া কাজ করে চলে যাবে ---
তার সাথে খাবারের চুক্তি নেই।
উদ্বৃত্ত খাবার পচিয়ে ফেলা হবে ডাস্টবিনে,
কুকুরে যে অধিকার আছে সে অধিকারটুকুও ওদের নেই।
যাক সেটা অনাধিকার চর্চা করে লাভ কী ?
কিন্তু বাড়ির মালিকের অথবা মালিকের ছেলের যখন নজর পড়ে বুয়ার দিকে,
পেটকে বাঁচাবে না ইজ্জত বাঁচাবে !
টু শব্দটি করার উপায় নেই।
বুয়াকে তো বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না --
সবার একই কথা মিথ্যে দোষ চাপিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়া।
এজন্যই বড়ো বাড়িতে কাজ নেওয়া নষ্ট মেয়েদের কাজই তো এই।
কাজ ছেড়েও দিতে পারে না
এমন দুর্নাম ছড়িয়ে দেবে মহল্লায় কেউ কাজে রাখবে না।
বলির পাঁঠার মতো নিঃশব্দে পড়ে থাকে -
-
কে নষ্ট করলো ? কীভাবে নষ্ট হলো কেউ কী ভেবেছে কখনো ?
এসব ভাববার সময় কোথায় !
বিচারে একঘরে করো, গ্রাম- মহল্লা থেকে বের করে দাও
নইলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে।
অবশেষে ঠাঁই হয় নিষিদ্ধপল্লীতে
যেখানে এই বিচারপতিদেরই আনাগোনা
এই তো এক অভাবী সাধারণ মেয়ের জীবন গাথা।