প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ফটিকছড়িতে থামছে না অবৈধ মাটি বিক্রির বাণিজ্য

  • হাসান মেহেদী :
  • ২০২৪-০১-৩০ ১৭:০১:১৩
image
সম্প্রতি দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর ফটিকছড়ি অংশের বিভিন্ন স্থানে পাড় কেটে মাটি বিক্রির হিড়িক চলছে। প্রায় প্রতিদিনই গোপনে হালদাপাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করছে ভূমিদস্যুরা। ফলে হুমকিতে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। এতে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করছেন পরিবেশবিদরা। উপজেলার হারুয়ালছড়ি, পাইন্দং ও ভূজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় হালদা নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির অবৈধ বাণিজ্যে জড়িত প্রভাবশালী মহল। কয়েক মাস ধরে মাটি কাটার ফলে হালদা পাড়ের বেশ কয়েকটি জায়গা যেনো বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রাত একটার দিকে ভুজপুর থানাধীন হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের মাহান্সপাড়া সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। এ সময় স্কেভেটরের সাহায্যে অবৈধভাবে নাল জমির মাটি (টপ সয়েল) কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা, পরিবহন করা ও জমির শ্রেণি পরিবর্তন করার অপরাধে মো. রফিকুল আলম নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে মাটি খননের কাজে ব্যবহৃত একটি স্কেভেটর জব্দ করা হয়। এর কয়েকদিন আগে ভূজপুর ইউনিয়নের হরিনারকুল পুক্কিয়াবিলে হালদার পাড়ের মাটি কাটার প্রমাণ পায় উপজেলা প্রশাসন। এসময় প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে একটি স্কেবেটর জব্দ করে। এছাড়া পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরা চাঁন এলাকায় রাতে হালদার পাড় কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে। অন্যদিকে স্থানীয় একটি ইটভাটার মাটিভর্তি গাড়ি পারাপারে নদীর ওপর তৈরি করা হয়েছে সেতু। বর্তমানে এই ইউনিয়নের পাট্টিল্যার কুল, সেবা খোলা ও যুগিনীঘাটা এলাকায় হালদার পাড়ের মাটি কেটে ড্রামট্রাকে করে পার্শ্ববর্তী ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করার তথ্য পাওয়া যায়। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন নদীর পাড় কাটার ফলে বেড়িবাঁধ রক্ষায় নির্মিত ১৫৭ কোটি টাকার সিসি ব্লক বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের আশংকা, বর্ষাকালে বৃষ্টিতে প্লাবিত হতে পারে আশেপাশের এলাকাগুলো। স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে বালু মিশ্রিত এসব মাটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সম্প্রতি ভূজপুর ও পাইন্দং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও আবারও পাড় কেটে মাটি বিক্রির অবৈধ বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া সকালের আলো'কে বলেন, নদীর পাড় কাটার ফলে জীববৈচিত্র্য যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু মৎস্য হ্যারিটেজ ঘোষিত হালদা নদীও পড়তে পারে মারাত্মক অস্তিত্ব ঝুঁকিতে। তিনি মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দেন। ফটিকছড়ি উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দৈনিক কাগজকে বলেন, নদীর পাড় কাটা কিংবা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা অবৈধ। যারা এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।