তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া অনেক নেতার মোহ ভেঙেছে

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২১-০৬-০৬ ০৫:৩৬:২২
image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রচার-ঝড় তুলেছিল। এই প্রচার-ঝড়ের মুখে অনেক নেতা তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।

ওই নেতারা ভেবেছিলেন, সামনে বিজেপির দিন আসছে। ক্ষমতায় সম্ভাব্য বদলের অঙ্ক কষে তাঁরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে ভেড়েন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় বাঘা বাঘা নেতা, বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে ছুটে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে। প্রচারে তাঁরা সবাই বলছিলেন, এবার তৃণমূল শেষ। রাজ্যের ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। অবশ্য বেশির ভাগ জনমত সমীক্ষা তৃণমূলেরই জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে যেসব নেতা বিজেপিতে যান, তাঁরা নতুন করে স্বপ্ন বুনছিলেন। নির্বাচনে বিজেপি জিতলে কে কোন অবস্থানে থাকবেন, তা নিয়ে চলে নানা জল্পনাকল্পনা।

নির্বাচনের ফলে আশাভঙ্গ হয় বিজেপির। সব হিসাব–নিকাশ পাল্টে দিয়ে বিপুল আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২১৩টি পায় তৃণমূল। বিজেপি পায় মাত্র ৭৭ আসন।

নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ে রাজ্যের রাজনীতির ছক উল্টে যায়। তৃণমূলের দলত্যাগীরা বুঝতেই পারেননি যে এভাবে বিজেপি পরাজিত হবে।

বিজেপির এমন হারের পর তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের একাংশ এখন তাঁদের সাবেক দলে ফিরে যেতে চাইছেন। সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সোনালী গুহ, দিব্যেন্দু বিশ্বাস, সরলা মুর্মু, বাচ্চু হাসদা প্রমুখ তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার জন্য দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করেছেন। মমতাও এ আবেদনে সাড়া দিয়েছেন।

তৃণমূলের বনমন্ত্রী ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে হেরে গেছেন। এখন শোনা যাচ্ছে, তিনিও নাকি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। তিনি এখন আর বিজেপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না।

প্রবীর ঘোষাল তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। তিনি বিজেপিতে গিয়ে সব হারিয়েছেন। এখন তিনি দুঃখ করে বলেছেন, ‘আমার মা মারা যাওয়ার পর বিজেপির এক নেতাও আমার বাড়িতে সমবেদনা জানাতে এলেন না।’

স্বার্থসিদ্ধি ও সুযোগ লাভের আশায় তৃণমূল ছেড়ে যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন, এখন তাঁদের অনেকেই আবার সাবেক দলে ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

অবশ্য মমতা নির্বাচনের পর কালীঘাটের দপ্তরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, যাঁরা দল ছেড়ে বিজেপিতে চলে গেছেন, তাঁরা ফিরে এলে স্বাগত। ফলে তৃণমূলের যেসব দলবদলকারীদের বিজেপিতে গিয়ে মোহ ভেঙেছে, তাঁরা সাবেক দলে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

এ দলে অবশ্য মমতার সাবেক ডানহাত ও পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেই। তিনি বিজেপিতে গিয়ে মমতাকে নির্বাচনে হারিয়ে দিয়েছেন। তিনি এখন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা।

বিজেপি থেকে নেতারা যে দলেবলে তৃণমূলে যেতে চাইছেন, তা রাজ্যের বিরোধী দলটির পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজ্য বিজেপির এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির নেতা শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি তো শুনেছি ৭২ জন তৃণমূলে চলে যাচ্ছেন। যাক না তাঁরা। যেখানে গেলে ভালো থাকবেন, তাঁরা সেখানেই যান না।’

রাজ্য বিজেপির আদি নেতারাও এখন বুঝতে পারছেন যে তৃণমূল থেকে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের অনেকের মোহভঙ্গ হয়েছে। এখন তাঁরা আবার তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন।