বছরের প্রথম এল ক্লাসিকোর সবে মিনিট দশেক এর মধ্যেই যেন ম্যাচের জয়ী দল জেনে গিয়েছিল সবাই। সেটি কোন দল? রিয়াল মাদ্রিদ।আর মাত্র মিনিট দুয়ের ব্যবধানে জোড়া গোল করে এত দ্রুত ম্যাচের নিয়তি লিখে ফেলার নায়ক ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত ভিনি প্রথামার্ধেই পেয়ে যান হ্যাট্রিকের দেখা।শেষ ২০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলা বার্সেলোনা শুরুর সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি
ভিনির একক নৈপুন্যে সউদী আরবের রিয়াদের কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে রোববার রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালটি ৪-১ ব্যবধানে জেতে কার্লো আনচেলত্তির দল।রিয়ালের অন্য গোলটি এসেছে দলের আরেক ব্রাজিলিয়ান তারকা রদ্রিগোর পা থেকে।বার্সেলোনার একমাত্র গোলটি করেন লেভান্ডোফস্কি।
এর মধ্যে দিয়ে গতবছরের ফাইনালের মধুর 'প্রতিশোধ'ও নিল রিয়াল।গত বছর এই রিয়াদেই রেয়ালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের রেকর্ড ১৪তম শিরোপা জিতেছিল বার্সেলোনা।রিয়াদেই
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সেই হার ফিরিয়ে দিল লস ব্লাংকোরা।এটি রিয়ালের ১৩তম স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা। এর মধ্য দিয়ে ১৪টি শিরোপা জিতে শীর্ষে থাকা বার্সার সঙ্গে ব্যবধানও কমিয়ে এনেছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দলটি।
ফেভারিট হিসেব শুরু করা রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের শুরু থেকে দাপট দেখায়।প্রথম তিন মিনিটেই দুইবার আক্রমণে যায় দলটি। ষষ্ট মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের শট আটকে দেন রোনাল্দ আরাউহো।তবে রিয়াল এগিয়ে যায় পরের মিনিটেই।
৭ থেকে ১০- এই তিন মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে রে বার্সাকে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন ভিনিসিয়ুস।৭ মিনিটে জুড বেলিংহামের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান খুঁজে নেন জাল।ভিনির পরের গোলে এসিস্টের ভূমিকায় ছিলেন স্বদেশি সতীর্থ রদ্রিগো।এই চাপ আর সামলাতে পারেনি।৩৩ মিনিটে বার্সার হয়ে ব্যবধান কমান রবার্ট লেভানডফস্কি। বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক ভলিতে লক্ষ্যভেদ করে বার্সাকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দেন এ পোলিশ স্ট্রাইকার। কিন্তু বার্সাকে হতাশ করে ৩৯ মিনিটে রিয়ালের হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন ভিনি। সেই পেনাল্টি অবশ্য তিনি নিজেই নেন। নিখুঁত লক্ষ্যভেদে এই ব্রাজিলিয়ান প্রথমার্ধেই আদায় করে নেন হ্যাটট্রিক। নিজের আগের ১৫ ক্লাসিকোয় ভিনিসিউসের গোল ছিল কেবল ৩টি, এবার এক ম্যাচে ৩৯ মিনিটের মধ্যেই করলেন ৩টি।৩-১ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় রিয়াল।
৬৪ তম মিনিটে বার্সেলোনার ঘুরে দাঁড়ানোর ফিকে আশাও শেষ করে দেন রদ্রিগো ।দারুণ এক ফিনিশে স্কোরলাইন ৪-১ করেন এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। ভিনিসিউসের পাস ক্লিয়ার করতে পারেননি ডিফেন্ডার জুল কুন্দে। কাছেই থাকা রদ্রিগো অনায়াসে জাল খুঁজে নেন।
৭১তম মিনিটে আরেকটি ধাক্কা খায় বার্সা। ভিনিসিউসকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আরাউহো।শেষ পর্যন্ত তিন গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।