যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)-এ
মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। আজ (শনিবার) সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্থায়ীভাবে নির্মিত স্মৃতিসৌধে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়।
পরে রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মেয়েদের বলনিক্ষেপ খেলা, নতুন মাঠ উদ্বোধন এবং মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আয়োজিত প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের পুরস্কার বিতরণ করেন রাবিপ্রবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. সেলিনা আখতার।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীপংকর তালুকদার একাডেমিক ভবনে আলোচনা সভা শুরু হয়। সিএসই বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ধীমান শর্মার সঞ্চালনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সেলিনা আখতার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কাঞ্চন চাকমা। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. নিখিল চাকমা, রাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি গৌরব চাকমা, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান নেইংম্রাচিং চৌধুরী ননী, রাবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সহকারি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) মাহবুব আরা এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বিজয় দিবসের আলোচনায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদ হয়েছেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং আগামীর উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের কথা কখনো বলে শেষ করা যাবে না। বাঙালির অবিংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সীমাহীন আত্মত্যাগের কারণের বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। তিনি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে রাখা একটি বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। আগামী ২০৪১ সালের ভিশন হলো স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার, স্মার্ট ও উন্নত প্রযুক্তিতে কাজে লাগিয়ে আমরা যাতে উন্নত দেশসমূহের একই কাতারে যেতে পারি এবং বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
পরে বিজয় দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাঝে আজ উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।