শুক্রবার (২৪শে নভেম্বর) জাতীয় নির্বাচনের তফসিল বাতিলের দাবিতে ১৪১ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ৩৮৫ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও বিচারক। তারা বলছেন, ১৪১ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার দেয়া বিবৃতি বস্তুনিষ্ঠ নয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজলু হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর আতিউর রহমান, সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, সাবেক আইজিপি, সচিব ও কলামিস্ট মোহাম্মদ নূরুল হুদা ও সাবেক আইজিপি ও রাষ্ট্রদূত ড. হাসান মাহমুদ খন্দকারসহ ৩৮৫জন এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।
১৪১ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার পাঠানো বিবৃতিটি দৃষ্টিগোচর হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলছেন, তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় প্রবর্তনের বিষয়ে 'ডকট্রিন অব নেসেসিটি'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো দলের একক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও দাবিকে 'ডকট্রিন অব নেসেসিট' বলে চালিয়ে দেওয়া 'একতরফা' বিষয়। তাছাড়া বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি, যাতে এর প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাকে ২০০১ সালে ষড়যন্ত্র করে প্রাথমিকভাবে বিতর্কিত করেছে এবং ২০০৬ সালে বিবিধ পদক্ষেপের মাধ্যমে এক এগারোর সৃষ্টি করে তিন মাসের তত্বাবধায়ক সরকারকে দুই বছরের দীর্ঘ একটি অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশের জনগণ এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নবম জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের নিমিত্ত তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে বলে মন্তব্য করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বহুবার আহ্বান করা হলেও তাতে কর্ণপাত না করে সরকারের পদত্যাগের জন্য আন্দোলন, আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস, প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারকদের বাসভবনে হামলা, কর্তব্যরত পুলিশকে হত্যা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থাপনায় নাশকতা করে। এই একই মহল নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য ২০১৪ সালেও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, সড়কপথে বৃক্ষকর্তন, নির্বাচন অফিসসমূহে অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের নৃশংসতা ও বর্বরোচিত কাজ করেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। কমিশন এই তফসিল ঘোষণার পূর্বে কমিশনের সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বহুবার আলোচনা করেছে এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য একাধিকবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কমিশনের এই আহ্বানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা দলগুলো কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেনি। এমনকি তাদেরকে কমিশন থেকে পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা সে আলোচনায় সাড়া দেয়নি, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের বিধিসম্মত তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে-যেখানে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত সব দলের অংশগ্রহণের উন্মুক্ত সুযোগ বিদ্যমান, তাকে একতরফা তফসিল' বলার কোনো অবকাশ আছে বলে আমরা মনে করি না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘোষিত তফসিল কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের জন্য প্রযোজ্য এবং উন্মুক্ত। তাহলে কীভাবে এই তফসিল একতরফা হয় এবং কীভাবে অবসরপ্রাপ্ত কিছু সরকারি কর্মকর্তা কমিশনের সংবিধান সম্মত তফসিলকে এক তরফা তফসিল হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের জন্য সুপারিশ করেন তা সর্বসাধারণের কাছে বোধগম্য নয়। এই প্রয়াস বাংলাদেশকে একটি সাংবিধানিক শূন্যতার দিকে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর।