পূর্ণিমার জোতে ডিম ছাড়ছে মা-মাছ, হালদায় ডিম আহরণ শুরু
- বানিজ্য ডেস্ক:
-
২০২১-০৫-২৭ ০০:৪৮:০০
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব না পড়ায় দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা-মাছ। গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে পূর্ণিমার জোতে নমুনা ডিম ছাড়ে মা-মাছ।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার পর পুরোদমে ডিম ছাড়া শুরু করে মা-মাছ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পীযুষ প্রভাকর। তিন শতাধিক নৌকা ও সংগ্রহের বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ডিম আহরণে নদীতে নেমে পড়েছেন ছয় শতাধিক সংগ্রহকারী। তবে ভাটা না পড়ায় এখনো বিষয়টি পরিষ্কার বুঝতে পারছেন না ডিম আহরণকারীরা। এ ছাড়া নদীতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় মা-মাছের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তার পরও সব শঙ্কা কাটিয়ে চলতি জোতেই মা-মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন হালদা বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে হালদা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব না কাটা পর্যন্ত হালদার মা-মাছ ডিম ছাড়বে না। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে ল্যান্ডিং করেনি, তাই চট্টগ্রাম উপকূল অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ার প্রশ্নই আসে না। ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওড়িশায় আঘাত হেনে দুর্বল হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে থাকলেও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ডিম ছাড়বে কিনা তা নিয়ে ছিল সংশয়। তবে সব শঙ্কাকে পেছনে ফেলে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতের জোয়ারেই নমুনা ডিম ছাড়তে শুরু করেছে মা মাছ। এর পর গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার পর থেকে পুরোদমে ডিম ছাড়ে।
এদিকে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় হালদা নদীতে লবণাক্ত পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পীযুষ প্রভাকর বলেন, ‘বুধবার দুপুর ১২টার পর থেকে হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডিম পাওয়া যাচ্ছে। ডিমের পরিমাণও ভালো।’ জোয়ারের পানির সঙ্গে লবণাক্ত পানি প্রবেশের আশঙ্কা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পানি পরীক্ষার ব্যবস্থা আমাদের নেই। ওয়াসা পানি পরীক্ষা করলে তাদের কাছ থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করব।’
কামাল উদ্দিন সওদাগর নামে এক ডিম সংগ্রহকারী জানান, মঙ্গলবার রাতে নমুনা ডিম পাওয়া গেলেও বুধবার দুপুরে পূর্ণাঙ্গ ডিম ছেড়েছে বলে মনে হয়েছে। ভাটা না পড়ায় বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে না। আরেক ডিম সংগ্রহকারী জামসেদ মিয়া বলেন, আমরা আধা কেজি থেকে দুই কেজি করে ডিম পেয়েছি। সে হিসাবে এগুলো নমুনা ডিম। পূর্ণাঙ্গ ডিম হলে কয়েক বালতি ডিম পাওয়া যেত।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার পর থেকে হালদা নদীর হাটহাজারী ও রাউজান অংশের আজিমের ঘাট, অংকুরি ঘোনা, কাগতিয়ার মুখ, গড়দুয়ারা নয়াহাট, রাম দাশ মুন্সির ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও সত্তার ঘাট অংশে তিন শতাধিক নৌকা ও ডিম সংগ্রহের সরঞ্জাম নিয়ে ডিম আহরণ করছেন ছয় শতাধিক সংগ্রহকারী। রাত পৌনে ১২টায় একবার এবং গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ডিম ছাড়ে মা-মাছ। এগুলো নমুনা ডিম বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরায়। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব না পড়ায় মা-মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। চলতি জোতে পুরোদমে মা-মাছ ডিম ছাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
সরেজমিন গতকাল হালদা পাড় ঘুরে দেখা গেছে, হালদা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবুও নৌকা-জালসহ ডিম ধরার সরঞ্জাম নিয়ে আহরণকারীরা নদীতে অবস্থান করছেন। তবে ডিম ছাড়ার এ নির্দিষ্ট মৌসুমে নদীতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় মা-মাছের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংগ্রহকারীরা।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে লবণাক্ত পানির বিষয়ে জেনেছি। নদীতে গিয়ে পানি পরীক্ষা করে জানলাম; এ সময় নদীর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে হালদায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৬ গুণ বেশি লবণাক্ততার পরিমাণ আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ না কমলে মা-মাছের ডিম ছাড়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী বলেন, মা-মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুম হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে হালদার ডিম সংগ্রহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি। মঙ্গলবার রাতে হালদার বিভিন্ন পয়েন্টে মা-মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। খবর পেয়ে বুধবার ভোরে আমি হালদায় এসে পৌঁছেছি। অপেক্ষায় আছি কখন পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়বে মা-মাছ।