পা র মি তা চ্যা টা র্জী

  • সংস্কার
  • ২০২৩-১০-০৯ ১৩:৩৪:২৪
image
এখনকার যুগে এরকম সংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধ বিশ্বাসে কেউ ভোগে? ইতিহাসের অধ্যাপক অয়ন তার স্ত্রী প্রিয়ার দিকে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিল-- তুমি না একজন শিক্ষিকা তুমি কি করে বললে যে-- ব্রাহ্মণ ছাড়া রান্নার লোক রাখা হবেনা? কে সত্যিকারের ব্রাহ্মণ অব্রাহ্মণ তা তোমরা দেখতে গেছ? সবাই মানুষ -- আমার দুঃখ কি জানো প্রিয়া? আমি বাইরে সবাইকে শিক্ষা দি-- অথচ নিজের ঘর টাই কুসংস্কারের অন্ধকারে ডুবে আছে-- দুদিন বাদে আমাদের সাত বছরের মেয়ে মিমি ও এসব শিখবে--। এসব কথা আমাকে না বলে মাকে বোঝাওনা--আমি কি এসব মানি? মায়ের অসুবিধা হয় তারজন্যই জিজ্ঞেস করি-- -- একজনের অসুবিধা মেটাতে গিয়ে আর একটা মানুষকে যে অপমান করছ - সেটা কি মনে থাকে? - থাকে বৈকি খুবই থাকে -- আমার যথেষ্ট মনের ওপর চাপ পড়ে এ ধরণের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে-- কিন্তু কি করব-- উনি যতদিন আছেন ততদিন এটা মেনে না চলে তো উপায় নেই -- - কোন অন্যায় কে মেনে নেওয়া কখনোই উচিৎ নয় সে যেই হোক - আমি মায়ের সাথে কথা বলব-- - দোহাই তোমার এ নিয়ে আর তর্ক কোর না-- তারপর তিনদিন না খেয়ে বসে থাকবেন -- -- তাহলে আর আমি কি করব? আমায় বলতেও দেবেনা - আর বাড়িতে এই কুসংস্কারের চাষ চলতেই থাকবে-- আমি ভয় পাই আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য -- এবার ও ওসবে অভ্যস্ত হয়ে যাবে-- - আরে ওইটুকু মেয়ে ও কি বোঝে এসব কথা --? বাইরে মায়ের গলা শুনে অয়ন বেরিয়ে এসে বলল-- আমায় ডাকছিলে? - হ্যাঁ তোমাদের কথা আমি সব শুনেছি -- দেখ এতদিনের সংস্কার আর বিশ্বাস তো আমি একদিনে ছেড়ে দিতে পারবনা- তাই আমি যতদিন আছি এ বাড়িতে এই নিয়মই চলবে--। মা মা শোন আমি তোমাকে একটা কথা বলি-- তুমি তো খুব দয়াময়ী -- কারুর কষ্ট দেখলে তুমি ছুটে চলে যাও -- কেন যাও? শুধু ব্রাহ্মণদের বাড়িতেতো বেছে বেছে যাওনা-- সবার বাড়িতেই যাও-- কারণ বাবার কাছে থেকে তুমি খুব ভালো করে হোমিওপ্যাথিতে জ্ঞান অর্জন করেছ-- তাই তো যাও-- -- হ্যাঁ তাই যাই, যদি আমার ওষুধে জন্য মানুষটা একটুও স্বস্তি পায় সেটুকুই যথেষ্ট মনে হয়-- -- সেবার তো দত্ত কাকীমার মেয়ে জ্বরে প্রায় অজ্ঞান - তুমি খবর পাওয়া মাত্র সব ভুলে ওষুধের বাক্স নিয়ে ছুটলে-- কেন গেলে? ওরা তো অব্রাহ্মণ -- শুধু তাই নয় মেয়েটিকে সুস্থ করার পর ওদের বাড়িতে মিষ্টি জল ও খেলে? -- আরে অসুখের সাথে জাতের কি সম্পর্ক আছে? যে জাতই হোক মানুষ তো আগে তারা -- -- হ্যাঁ এটাই আমি বলতে চাইছিলাম যে আমরা সবাই মানুষ -- প্রত্যেক মানুষের অন্তরেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে মা-- শুধু শুধু এ সংস্কারটা মাথায় রেখে যদি তুমি কে ব্রাহ্মণ, কে অব্রাহ্মণ জিজ্ঞেস কর না -- তাহলে মানুষের অন্তরে আঘাত করা হয়-- অর্থাৎ ঈশ্বর সৃষ্ট মানুষের মনকে তুমি আঘাত করছ,-- এটা কি উচিৎ? কোন ঈশ্বর তো এসব বিধান দেন নি-- সবই তো মানুষের সৃষ্টি -- তবে আমরা মানুষের সৃষ্টি এই অন্ধবিশ্বাস গুলো মেনে চলে আর একজন মানুষকে আঘাত করব কেন? সে অধিকার কিন্তু ঈশ্বর আমাদের দেন নি-- -- ওহ্ বাবা বুঝেছি বুঝেছি -- নাও আমি আমার নিয়ম উঠিয়ে নিলাম -- ভালো লোক রাখো - আর আমার কোন আপত্তি নেই --। অয়ন হেসে প্রিয়া কে বলল-- বোঝাতে জানতে হয় বুঝলে ম্যাডাম - - হ্যাঁ তুমি ছেলে বলেই সহজে মেনে গেলেন-- আর আমি বলতে গেলেই চোখ বড়ো বড়ো করে বলতেন -- জ্ঞান দিও না তো-- অয়ন হো হো করে হেসে প্রিয়া কে কাছে টেনে নিল--।