মধ্যরাতের এই স্তব্ধ ক্যানভাসে
যখন নক্ষত্ররা একে একে আত্মহত্যা করে,
আমি এক প্রাচীন পাণ্ডুলিপির মতো খুলে বসি—
আমাদের সেই রৌদ্রোজ্জ্বল স্বপ্নের দিনলিপি।
কী তীব্র ছিল সেই আদিম আকাঙ্ক্ষা,
যেন সমস্ত চরাচর থমকে দাঁড়িয়েছিল
তোমার লাবণ্যের মহাজাগতিক ইশারায়!
বুকের গহীনে যে স্বপ্নের প্রাসাদ গড়েছিলাম,
সেখানে তুমি ছিলে একচ্ছত্র প্রিয়তি ;
তোমার নিঃশ্বাসে ছিল চন্দনের ঘ্রাণ,
আর চোখের কৃষ্ণগহ্বরে ছিল এক অনন্ত আকাশ,
যেখানে মেঘ হয়ে ভেসে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল আমার।
অথচ আজ, মহাকালের নিষ্ঠুর স্রোতে
সেই স্বপ্ন কেবলই এক জীবাশ্ম,
এক কুয়াশাচ্ছন্ন মরীচিকা।
চোখের পলকে কখন যে বসন্তের অরণ্য
এক রুক্ষ মরূদ্যান হয়ে গেল, টের পাইনি।
এখন বুকের পাঁজরে কেবলই এক অপূর্ণতার অর্কেস্ট্রা;
যে স্বপ্নকে ছুঁতে চেয়েছিলাম পরম গৌরবে,
তা আজ এক হিমশীতল পাথর—
যা কেবলই একাকী বহন করে চলে
এক শতাব্দীর দীর্ঘশ্বাস।