শিল্পকারখানা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতো জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক |
  • ২০২৬-১১-০৬ ০৯:৫৬:৫২
image

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের শিল্প ও শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষায় সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করবে। ২০২৪ সালে দেশের মানুষ যেভাবে অন্যায়ের জবাব দিয়েছিল, সামনেও একইভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু একটি মহল এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে শিল্পকারখানায় বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। এখন সময় দেশ গঠনের, মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিল্পকারখানাকে দেশের মানুষের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমজীবী মানুষ। একই সঙ্গে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ।
তিনি বলেন,দেশের প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসংখ্য মানুষের জীবিকা জড়িত। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু মালিকপক্ষ নয়, শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারও অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তাই শিল্পকারখানা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পথসভায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া পর্যালোচনা ও বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। তাঁদের ন্যায্য দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে।
খুলনা একসময় দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।
নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দিন-রাত কাজ করছে কীভাবে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা যায়, শিল্পের প্রসার ঘটানো যায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা যায়।
পথসভায় তিনি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কাটাখালী মোড়ের পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শিল্পকারখানা রক্ষা, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও নির্ধারিত সময়সীমা এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: ইউএনবি, ঢাকা ট্রিবিউন ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য।

তারেক রহমানের বক্তব্য, শিল্পকারখানা রক্ষা, শ্রমিকদের নতুন মজুরি, খুলনা শিল্পাঞ্চল,