গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে জরুরী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

  • অরবিন্দু বেপারী
  • ২০২৬-১১-০৫ ২০:১৯:৩৬
image

অদ্য ৫ নভেম্বর বিকাল ৪ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খা হলে সম্মিলিত গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরশনে জরুরী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহবায়ক আমি মির্জা আল শামীম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও মজুরি নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন চলছে। ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছিল। এরমধ্যে হঠাৎ করেই এই আন্দোলনটির মধ্যে কিছু দুষ্কৃতিকারীরা অনুপ্রবেশ করে এটাকে ধুলিস্যাৎ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি গত কয়েকদিন যাবত গাজীপুর, আশুলিয়া, সহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাক কারখানা ও যানবাহনের উপর অত্যন্ত নেককারজনকভাবে হামলার মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। আমরা এই ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। কোন শ্রমিক কখনোই তার রুটি রুজির জায়গাটা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ সহ কোন প্রকার ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে না। আমরা সম্মিলিত গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে শ্রমিক ভাই ও বোনদের অনুরোধ জানাবো আপাতত যার যার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জন্য। আমাদের মূল যে দাবি ছিল মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা সেই ব্যাপারে, ইতিমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এজন্য আমরা শ্রমিক ভাই বোনদের পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিকতার সাথে ধন্যবাদ জানাই। প্রিয় শ্রমিক ভাই ও বোনেরা আমরা আপনাদেরকে অনুরোধ জানাবো একটু সময় দেয়ার জন্য। মালিকপক্ষ আমাদের শ্রমিক পক্ষ ও সরকার পক্ষ মিলে পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাইবোনদের জন্য একটি সম্মানজনক মজুরি নির্ধারণ করবে ইনশাল্লাহ। আমরা অপেক্ষায় থাকবো, এবং আমাদের শ্রমিক পক্ষের মজুরি বোর্ডে যে প্রতিনিধি রয়েছেন তার মাধ্যমে আলাপ আলোচনা করে আমাদের দাবি উত্থাপন করব।দাবির সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না পেলে আমরা পরবর্তীতে শ্রমিক ভাই বোনদের ডেকে আবারো আলোচনায় বসবো। আলোচনা ব্যতীত কোন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না তাই আমরা আশা করব আলোচনার জন্য একটু সময় ও সুযোগ করে দিতে। প্রিয় শ্রমিক ভাই ও বোনেরা আমাদের ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায়ের আন্দোলনটিকে পুঁজি করে কেহ যেন শিল্প ও দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে না পারে সেইদিকে আপনারা সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। আজকে আমাদের মাধ্যমে যদি দেশের শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে আপনি আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হব। একইভাবে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে, আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি এই পোশাক শিল্প খাত এটাকে মাথায় রেখে আমরা সকলে মিলে আসুন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাই এবং আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ন্যায় সঙ্গত দাবি সম্মানজনক একটি মজুর নির্ধারণ করার  আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাই। যেহেতু সরকার মুজুরি বোর্ড গঠন করেছেন সেহেতু আমাদের সরকারকে সময় দিয়ে শান্ত থাকা প্রয়োজন, আমরা যদি সেটা না করে ধ্বংসযজ্ঞ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের কর্মস্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত করি তাহলে আমরা নিজেরাই বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হব। হয়তোবা এটাও হতে পারে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনদের এই আন্দোলনের উপর ভর করে পতিত ফ্যাসিস্ট এবং তাদের দোসররা পুনর্বাসনের চেষ্টা করতে পারে, একদিকে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মজুরির আন্দোলন অন্যদিকে ডিসেম্বরে পতিত স্বৈরাচার দেশে ফিরে আসার প্রভাগানটা ছড়িয়ে দেশে একটি অস্থিতিশীল অবস্থার মাধ্যমে এদেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আসুন আমরা সকলে মিলে এই ষড়যন্ত্রের হাত থেকে দেশ ও শিল্পকে রক্ষা করি।একই সাথে মালিকদেরকে অনুরোধ জানাবো আপনারও কোনভাবে শ্রমিকদেরকে উস্কানি মাধ্যমে রাজপথে নামানোর চেষ্টা করবেননা। এই আন্দোলনে ইতিমধ্য একজন শ্রমিক দুষ্কৃতিকারীদের হাতে মৃত্যুবরণ করেছে, আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি ও তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবী জানাচ্ছি এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি এবংআমরা মালিকও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীর নামে কোন নিরীহ শ্রমিক কে ছাটাই বা গ্রেফতার সহ কোন প্রকার নির্যাতন করা যাবে না।ইতিমধ্যে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তদন্তের মাধ্যমে যদি তারা অপরাধী না হয় তাদেরকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ মোস্তফা, সদস্য সচিব অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, কেন্দ্রীয় সদস্য আকাশ আহমেদ বাবুল, আমির হামজা,বাবুল শিকদার সহ বিভিন্ন প্রায় ৩০ টি জাতীয় সংগঠনের আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ।