সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে করণীয় নির্ধারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-১১-০৩ ২২:৫৭:০৪
image

আজ ০৩ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি. তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ’বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ (বিআরএসপি) এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকিসমূহ দেশের বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আলোকে আমাদের করণীয়। গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশীপ (জিআরএসপি) এর আর্থিক সহযোগিতায় বেসরকারি স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) উক্ত মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিআইপিআরবি এর রোড সেফটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব কাজী বোরহান উদ্দিন। তিনি সড়ক দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট আচরণগত ঝুঁকিসমূহ যেমন হেলমেট ব্যবহার,সীটবেল্ট ও নিরাপদ শিশু আসন (চাইল্ড রেসট্রিয়েন্ট) ব্যবহার,এবং গতি বিষয়ক গবেষণার ফলাফল,ঝুঁকিসমূহ নিরসনে আমাদের দেশে কি কি আইন ও বিধিমালা রয়েছে,সেফ সিস্টেম এপ্রোচের আলোকে কি কি ঘাটতি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার করণীয় কি ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। 
মতবিনিময় সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি। তিনি বলেন সরকার স্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেয়, প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেয়। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় গবেষণা এবং বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচারণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ হলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার রোগী এবং ট্রমা কমবে, হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে, ডাক্তারগণ আরো মনোযোগী হতে পারবে গবেষণায় । 
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক (বিআরএসপি) ডাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন ইনজুরিতে মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার কারণ উদঘাটনের জন্য সমাজভিত্তিক গবেষণা ও জরিপ পরিচালনায় সিআইপিআরবি দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নাই। আমাদের বার্ষিক বাজেটে গবেষণা ও জরিপের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা সহ অন্যান্য দুর্ঘটনায় দিন দিন মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা রাড়ছে, কেন বাড়ছে তা জানতে যেমন গবেষণা করতে হবে, তেমনি সেগুলো প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন করতে হবে।  
তিনি আরো জানান সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ মারা যায় তার চেয়ে বহুগুন আহত হয়। যারা মারা যায় বা পঙ্গু হয় তাদের বেশিরভাগই যুবক ও তরুণ। আমরা যদি দুর্ঘটনার ১ ঘন্টার মধ্যে (গোল্ডেন আওয়ার) আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছ দিতে পারি তাহলে বিরাট একটা অংশ মৃত্যুও পঙ্গুত্বের হাত থেকে রেহাই পাবে। আগে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মুষ্টিমেয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করতো, পরবর্তীতে সরকার মনে করেছে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাতে মানুষের মৃত্যু এবং পঙ্গু হওয়ার হার করবে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। 
উপস্থাপনা শেষে মুক্ত আলোচনা পরিচালনা এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিআইপিআরবি এর উপ-নির্বাহী পরিচালক এবং পরিচালক রোড ট্রাফিক ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিট ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন বর্তমান সময়ে সড়কে যে প্রাণহাণি হচ্ছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সম্মিলিতভাবে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে। সেফ সিস্টেম এপ্রোচের উপাদানগুলোর সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশ রোড ক্র্যাশ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। আমাদেরকে সেই ভাল উদাহরণগুলো অনুসরণ করে এবং সেফ সিস্টেম এপ্রোচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন করতে হবে।  
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে রোড সেফটি কোয়ালিশনের প্রতিনিধিবৃন্দদের মধ্যে থেকে স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের প্রতিনিধি ড. ভূবন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন আজকের আলোচনায় সড়কে মানুষের মৃত্যুতে স্বাস্থ্য খাতে কি পরিমান বোঝা তৈরি হয় তার একটা চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনতে অঙ্গীকারাবদ্ধ, এটি বাস্তবায়ন করতে হলে সেফ সিস্টেম এপ্রোচের আলোকে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ণ করা এখন সময়ের দাবী। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ডাঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের যে খসড়া করেছি তাতে সড়ক দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অধ্যায় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সহায়তা চাই। ব্র্র্যাকের প্রতিনিধি তামান্না মিজান অংশগ্রহণকারীদেরকে জানান রোড সেফটি কোয়ালিশনের পক্ষে ব্র্যাক হেলমেট স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে কাজ করছে। আশা করা যায় ২০২৬ সালের মধ্যেই এ বিষয়ের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।