খানজাহান আলী থানার গিলাতলা গাজীপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বাড়িতে চুরি

  • শেখ বদর উদ্দিন
  • ২০২৬-১১-০৩ ২১:৪২:৪২
image

২১ দিনেও চোর এবং মালামাল উদ্ধার হয়নি,পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি ঃ খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা ৫নং ওয়ার্ডের গাজীপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে অভিনব কায়দায় সংঘটিত চুরির ২১ দিন পার হলেও কোনো চোর বা চোরাইকৃত মালামালের সন্ধান পায়নি থানা পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের অনীহা, গাফিলতি এবং এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ টহল না থাকায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এতে পুরো এলাকায় চরম চোরের আতঙ্ক বিরাজ করছে। থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেলে খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা গাজীপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা তাছলিমা খাতুন তাঁর নিজ বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে ঢাকার কল্যাণপুরে ছেলের কাছে যান। পরবর্তীতে গত ১৩ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন যে,মেইন গেট ভেতর থেকে বন্ধ এবং বাইরে থেকে চিলকোঠার (ছাদের সিঁড়ির ঘর) চাল ভাঙ্গা ও দরজা খোলা। এরপর ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা এবং জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়,অজ্ঞাতনামা চোরেরা গত ৩ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে যেকোনো সময়ে বসতবাড়ির চিলকোঠার টিনের স্ক্রু খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে রুমের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আলমারি ও ওয়ারড্রোব থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মূল্যবান অনেকগুলো শাড়ি, থ্রি-পিস এবং এলইডি টিভিসহ সর্বমোট ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তাছলিমা খাতুন খানজাহান আলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও দীর্ঘ ২১ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ আজ পর্যন্ত কোনো চোরকে শনাক্ত করতে পারেনি কিংবা খোয়া যাওয়া মালামালও উদ্ধার করতে পারেনি। ভুক্তভোগী মহল ও স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানা এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল না থাকায় এবং পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী আরোও জানান এলাকায় যেমন মাদকের ছড়াছড়ি তেমন চোর বাটপারের একের পর এক এমন চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে চোর চক্রের সন্ধান ও মালামাল উদ্ধারে পুলিশ প্রশাসনকে আরও অধিকতর তৎপর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল। 
এ বিষয়ে খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, চুরি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িত চোর চক্রকে গ্রেপ্তার, চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধার এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খুলনা জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।