কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে গুচ্ছবোমার পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১১-০৩ ১০:২০:৪৫
image

কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে গুচ্ছবোমার ওয়ারহেড সংযুক্ত করে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) পরিচালিত এ পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতার পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তুর ওপর সরাসরি ওপর থেকে আঘাত হানার সক্ষমতাও যাচাই করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্ত মাঝারি আকারের গুচ্ছবোমার ওয়ারহেড সর্বোচ্চ বিস্ফোরণক্ষমতায় ৫ থেকে ৬ হেক্টর আয়তনের লক্ষ্যবস্তু এলাকা ধ্বংস করতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটির শেষ পর্যায়ের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষ্যবস্তুর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে ওপর থেকে সরাসরি আঘাত হানার নির্ভুলতা বাড়বে বলে দাবি করেছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এসব সক্ষমতার স্বাধীন যাচাই বা বিস্তারিত কারিগরি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্য জেনারেল কিম জং-সিক পরীক্ষাটি তদারকি করেন। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ পরীক্ষাকে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর কৌশলগত নয়, বরং ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী গুচ্ছবোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। ওই পরীক্ষায় ১২ থেকে ১৩ হেক্টর এলাকা ধ্বংস করার সক্ষমতার দাবি করা হয়। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্যও একই ধরনের ওয়ারহেড পরীক্ষা দেশটির অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে।
গুচ্ছবোমা এমন এক ধরনের অস্ত্র, যার মূল ওয়ারহেড বিস্ফোরিত হওয়ার পর ভেতরে থাকা অসংখ্য ছোট বিস্ফোরক উপাদান বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একসঙ্গে বড় এলাকাজুড়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। অবিস্ফোরিত উপাদান দীর্ঘ সময় পরও বেসামরিক মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে থাকতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালক কেসিএনএকে জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা এবং সম্ভাব্য বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। তাঁর দাবি, নতুন পরীক্ষাগুলো অস্ত্রব্যবস্থার ব্যবহারিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া ড্রোন, টর্পেডো ব্যবস্থা, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক প্রযুক্তির পরীক্ষা ও উন্নয়নে মনোযোগ বাড়িয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং নতুন অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক সক্ষমতার পাশাপাশি প্রচলিত সামরিক অস্ত্রের বহুমুখিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে পিয়ংইয়ং।
এদিকে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) একটি বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী তখন ঘটনাটিকে সম্ভাব্য স্থলমাইন বিস্ফোরণ হিসেবে তদন্তের কথা জানিয়েছিল। তবে মাইনটি কোন পক্ষের পুঁতে রাখা, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
সোমবারের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। পরীক্ষার সক্ষমতা ও ফলাফল সম্পর্কেও সিউল বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে উত্তর কোরিয়ার ঘোষিত ধ্বংসক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উন্নতির দাবির যথার্থতা যাচাইয়ের সুযোগ এখনও সীমিত।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা মূলত উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় সরাসরি পড়ে না। তবে এ ধরনের অস্ত্রের উন্নয়ন ও পরীক্ষা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হিসাব-নিকাশে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, গুচ্ছবোমা ওয়ারহেড, কোরীয় উপদ্বীপ উত্তেজনা

তথ্যসূত্র: ইয়োনহাপ, রয়টার্স ও এনকে নিউজের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন।