কলারোয়া সাতক্ষীরা::
সাতক্ষীরা কলারোয়ার খোর্দো চাকলা বর্ডারগার্ড ব্রীজের উপরিভাগ সংযোগ স্থলের (এক্সপেনশন জয়েন্ট) লোহার পাত বা প্লেট চুরির ঘটনা ঘটেছে।এতে ব্রীজের শক্তিশালী মান যেমনটা হ্রাস পেয়েছে তেমনি যানবাহন চলাচলে বিকট শব্দ ও ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। ব্রীজটি দীর্ঘ লম্বা, চওড়া উঁচু উন্নতমানের হওয়ায় কয়েকটা পার্টে তৈরি।৭টির মতো পার্টে মজবুত এই ব্রীজের উপরিভাগে সংযোগস্থলের (Expansion Joint) মাঝবরাবর একাধিক লোহার পাত (প্লেট)গায়েব হয়েছে।
রাতের আঁধারে অজ্ঞাতনামা চোরচক্র ব্রীজের ওপরের এই গুরুত্বপূর্ণ লোহার পাতগুলো খুলে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
স্থানীয়রা বলছেন,চুরি হওয়া লোহার পাতগুলো অনেক দিন ধরে নড়বড়ে হয়ে পড়ে থাকে,পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে নেশাখোররা এই চুরিকান্ডের আকাম করতে পারে।
নেশার টাকা জোগাড় করতে ব্রীজের সংযোগস্থলের আংশিক উঠে যাওয়া ওই লোহার পাত চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছে বলে তাদের ধারণা।এরফলে ব্রীজের মাঝ বরাবর বড় ধরনের ফাঁকা বা ড্রেনাকারে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।যা বর্তমানে যানবাহন চলাচলের সময় ধাক্কা লাগার ফলে বিকট শব্দ নিয়ে ঝাঁকুনি সৃষ্টি এবং চরম দুর্ঘটনা ও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ব্রীজের মানও নষ্ট হয়ে গেছে, যা ব্রীজটি দীর্ঘস্থায়ীত্বের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া এলাকায় নেশাখোর চোরদের উৎপাতও বেড়েছে,বেড়েছে চুরি। এতে রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষ যথেষ্ট আতঙ্কে বসবাস করছেন।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়,জনকল্যাণের এই ব্রীজটিতে জড়িয়ে আছে স্থানীয়দের বহু ত্যাগ।
জানা গেছে,কপোতাক্ষের উপরে ব্রীজটি অত্যধিক উঁচু ও বড় চওড়া হওয়ায় কারো কারো রাস্তার ধারের গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে দোকান ব্যবসা ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
কেউ কেউ ব্যবসা বাণিজ্যে দেউলিয়া হয়েছেন সেসময়।ধীরে ধীরে কেউ কেউ নিজেকে অনেক কষ্টে গুছিয়ে নিয়েছেন বহু অর্থ খরছ করে।সামর্থহীন কেউ কেউ নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে দেশান্তরী হয়েছেন।
তবু বিগত আ.লীগ সরকারের আমলে এলাকা ও দেশের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে সব ক্ষতি মেনে বহু ত্যাগ এবং আশা স্বপ্নের ফসল হিসেবে পাওয়া এই ব্রীজটি। যেটা যশোর সাতক্ষীরা দুই জেলার মধ্যবর্তী যান চলাচল যোগাযোগে অতি কম সময়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে অনন্য মাধ্যম এই ব্রীজ।
যা কলারোয়া এবং মনিরামপুরের মধ্যবর্তী কপোতাক্ষ নদীর উপরে অবস্থিত খোর্দো টু রাজগঞ্জ—পুলেরহাট যশোর সড়কে খোর্দো চাকলা নামক বর্ডারগার্ড ব্রীজ।কিন্তু অত্যাধুনিক বহু পিলারের উপর দাঁড়িয়ে থাকা সাত পার্টের আট লোহার পাতে মিলিত ব্রীজের সংযোগস্থলের কয়েকটি লোহার পাত না থাকায় সেখানে গভীর ও চওড়া ফাটলের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল,ইজিবাইক ইন্জিন চালিত ভ্যান,বাইসাইকেল এবং ছোট বড় ভারি যানবাহনগুলো এই ফাঁকা অংশে পড়ে মারাত্মক শব্দ ও ঝাঁকুনির সৃষ্টি হচ্ছে।ভোগান্তিও কম নয়।ভারী যানবাহন চলাচলের সময় ব্রীজটির ওই অংশে দিনে ও রাতের অন্ধকারে আচমকা ধাক্কায় বিকট শব্দের সৃষ্টি এবং ঝাঁকুনির পরিমাণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।যা ব্রীজের মান এবং ভবিষৎ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,প্রতিদিন এই ব্রীজ দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও ছোট বড় যানবাহন চলাচল করে।যার বুক ও অভিমুখে স্থাপিত স্ট্রিটলাইটও অকেজোপ্রায়,যেটা আছে তাও অপ্রতুল।
রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় চালকরা এই ফাঁকা অংশটি দেখতে পান না,যার ফলে প্রতিনিয়ত ঝুকি থেকে যায়।ধাক্কা খেয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কম নয়।
অতি দ্রুত ব্রীজের সংযোগ স্থলের চুরি যাওয়া লোহার পাত প্রতিস্থাপন এবং সমস্যাবহুল স্থানগুলো সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ-দশের সম্পদ।জলাঞ্জলি যাবে সরকারি ও দেশের অর্থ এবং ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে ছোট বড় যানবাহন ও জনসাধারণ।তাছাড়া ব্রিজটি দৃষ্টি নন্দন করতে কালার বা রং দিয়ে রঙিন করার দাবি জানান স্থানীয়রা।
এবিষয়ে কলারোয়া উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের (LGED/RHD)প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,লোহার পাত চুরির বিষয়টি আগে জানা ছিল না।
জনবহুল এলাকায় কপোতাক্ষের উপরে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ওই ব্রীজটির_
বর্তমান পরিস্থিতি--অবস্থা জানানোর জন্য প্রতিবেদককে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,জনকল্যাণে দেশের অত্যন্ত মূল্যবান এই সম্পদ ব্রীজটির ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের ছবি উঠিয়ে পাঠিয়ে দেন, সম্ভব হলে একটা লিখিত দরখাস্ত জমা দিতে পারেন।
তাছাড়া আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রত পরিদর্শন করে ব্রীজটি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন লোহার পাত পতিস্থাপনের জন্য সংস্কার করা হবে।।