ডেঙ্গু প্রতিরোধে মহেশখালীজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৬-১০-৩১ ২২:৫৫:১৬
image
সব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় সমন্বিত কার্যক্রম, তদারকিতে উপজেলা প্রশাসন! মহেশখালী (কক্সবাজার) ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন। মশার বংশবিস্তার রোধ,অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দূরীকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদ ও মহেশখালী পৌরসভাজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এবং মহেশখালী পৌরসভা এলাকায় চলমান এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাড়িঘরের আশপাশ, সড়ক, নালা-নর্দমা, জলাবদ্ধস্থান এবং মশারসম্ভাব্য প্রজননস্থল পরিষ্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার ও বিভিন্ন আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সার্বিক তদারকি করেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও মহেশখালী পৌরসভার প্রশাসক ইমরান মাহমুদ ডালিম। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সমন্বিত জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; বরং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক দায়িত্বঃ- এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। ফলে বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পানির ট্যাংক, পরিত্যক্ত বোতল, ডাবের খোসা ও অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে মহেশখালীর প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,বাজার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জনসমাগমস্থলে ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন। ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জঃ- পরিচ্ছন্নতা অভিযান একদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নিয়মিত তদারকি, মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের চলমান এ উদ্যোগ সফল করতে জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন মহেশখালী গড়ে তোলা এবং ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতিরোধে প্রশাসনের এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।