বিশিষ্ট অভিনেতা মাসুদ আলি খান-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • এ কে আজাদ
  • ২০২৬-১০-৩১ ০৭:০৯:৩৬
image
বিশিষ্ট অভিনেতা মাসুদ আলি খান-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ । তিনি ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। প্রয়াত এই অভিনেতার স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। মাসুদ আলী খান ১৯২৯ সালের ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে, নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আরশাদ আলী খান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মা সিতারা খাতুন। কলকাতায় কিছুকাল পড়াশুনার একটি অংশ শেষ করেন এরপর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে তিনি জগন্নাথ কলেজ এবং স্যার সলিমুল্লাহ কলেজে পড়াশোনা করেন। মাসুদ আলী খান ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন, ক্লাস টু-তে পড়াকালীন স্বরসতী পূজা সময় ‘রানা প্রতাপ সিং’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। উচ্চ মাধ্যমিক-এ পড়ার সময় তিনি ‘ড্রামা সার্কেল’র সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৪ সালে, ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার পরপরই মাসুদ আলী খান টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। টেলিভিশনে তাঁর অভিনীত প্রথম নাটক নাট্যকার ও পরিচালক নূরুল মোমেনের ‘ভাই ভাই সবাই’। টেলিভিশনে তাঁর অভিনীত অন্যান্য নাটকসমূহ-কোথাও কেউ নেই, সুখী মানুষ প্রজেক্ট, দিন চলে যায়, মধুর ঝামেলা, গুলশান এভিনিউ, সাদা কালো মন, শাপমোচন, কূল নাই কিনার নাই, ফিফটি-ফিফটি, পৌষ ফাগুনের পালা, প্যাভিলিয়ান, একান্নবর্তী উল্লেখযোগ্য। তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সাদেক খান পরিচালিত ‘নদী ও নারী’ মুক্তিপায় ১৯৬৫ সালে। মাসুদ আলী খান আরও যেসব চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন- আয়না ও অবশিষ্ট, শঙ্খনীল কারাগার, জনম দুখী, দীপু নাম্বার টু, না বোলো না, দুই দুয়ারী, মোল্লাবাড়ির বউ, মাটির ময়না, মেড ইন বাংলাদেশ, প্রিয়তমেষু, জোনাকির আলো অন্যতম। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য- একুশে পদক-২০২৩, টিভি নাটক আর্টিস্ট অ্যান্ড প্লে রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন (টেনাসিনাস) থেকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ও মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার। ব্যক্তিজীবনে মাসুদ আলী খান ১৯৫৫ সালে, তাহমিনা খানকে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। চাকরিজীবনে তিনি সরকারের নানা দপ্তরে কাজ করেছেন। ১৯৮৮ সালে, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সচিব হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নেন।