রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

  • সকালের আলো ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-৩০ ১৯:৪৬:১৮
image

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার স্টার্টআপ বা পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুপুর ১২টার দিকে প্রথম ইউনিটে দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক বিক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটকে পরবর্তী ধাপ বা ‘সি’ স্টেজে প্রবেশ করে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তবে শুরুতেই পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন করা হবে না। পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে টারবাইন,জেনারেটর,বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
বর্তমানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে টারবাইনসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের পরীক্ষা চলছে। উৎপাদন প্রায় ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পর আরও একটি পরিদর্শন ও মূল্যায়ন হবে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হবে।
অর্থাৎ, শুক্রবার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া শুরু হলেও জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি। গ্রিডে সংযোগের আগে আরও কয়েকটি কমিশনিং ও নিয়ন্ত্রক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজেও অগ্রগতি হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে,দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পে দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত এ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু হওয়াকে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন থেকে জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে পৌঁছাতে নিরাপত্তা পরীক্ষা, যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের আরও কয়েকটি ধাপ পার হতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন, জাতীয় গ্রিড