জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • সকালের আলো ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-৩০ ০৬:৪৩:১৩
image

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চার দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ২টা ৪৮ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৃহস্পতিবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার সময় তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপান সফর করেন তারেক রহমান। সফরজুড়ে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি।
২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের নেতারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে জাপানি একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পে মোট ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়।
এর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অনুদান সহায়তার বিষয়টিও রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা নিয়ে পৃথক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্যও একটি আগ্রহপত্র স্বাক্ষর করা হয়।
ঋণ সহায়তার দুটি প্রকল্পের একটি বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে এবং অন্যটি উপজেলা শাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হবে।
সরকারি পর্যায়ের চুক্তির পাশাপাশি জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে দুই দেশের বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
২৮ অক্টোবর টোকিওতে জেট্রোর সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগে’ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অটোমোবাইল উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ, উচ্চগতির রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, জেবিআইসির গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা।
ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরার মতো বড় জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়। এসব আলোচনায় বিনিয়োগ, শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জাপানের জ্বালানি ও লজিস্টিকস অবকাঠামো সরেজমিনে দেখতে প্রধানমন্ত্রী ফুত্তসুর জেরা এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়ার নিতসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার নাগোয়া সফর করেন তিনি। সেখানে জাপানের অটোমোবাইল শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা দেখতে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোতোমাচি কারখানা এবং টয়োটা মেমোরিয়েটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের চলমান উদ্যোগের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অনুষ্ঠিত হলো। দুই দেশের প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে নতুন কাঠামো দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপান। ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে দেশটির সহযোগিতা রয়েছে।

তারেক রহমান জাপান সফর, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, জাপানি বিনিয়োগ