কম্বোডিয়ায় ৩ হাজার ১০৪ বাংলাদেশিসহ ৫২ হাজার বিদেশি বহিষ্কার

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-২৮ ১০:২৩:৫২
image

অনলাইন প্রতারণাবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ৩ হাজার ১০৪ জন বাংলাদেশিসহ ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করেছে কম্বোডিয়া। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এসব অভিযান পরিচালনা করে।
কম্বোডিয়াভিত্তিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেশটির জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশনের তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে, এ সময়ে মোট ৩ হাজার ১০৪টি আইন প্রয়োগকারী অভিযান চালানো হয়। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এবারের বহিষ্কারের সংখ্যা বেড়েছে ৪১ হাজার ৬৮৫ জন, অর্থাৎ এক বছরে তা ৪০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার চীনা নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ৮ হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়,৪ হাজারের বেশি ভিয়েতনামি,৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি,আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, প্রায় ২ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিক রয়েছেন।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী,বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি নাগরিককে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত প্রত্যেক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় প্রতারণায় যুক্ত ছিলেন-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষ করে মানবপাচারের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়ে যেসব বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিককে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত করা হয়,তাঁদের আলাদাভাবে শনাক্ত ও যাচাই করার দাবি উঠেছে। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনও বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
সংগঠনটির মতে,পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে কম্বোডিয়া থেকে কতজন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো সেখানে অবস্থান করছেন,তার একটি নির্ভুল তালিকা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা,মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দালালদের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা যেন নতুন করে অন্য দেশে পাচারের শিকার না হন, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশি, অনলাইন প্রতারণা, মানবপাচার