তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা তাকাইচির,বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার জাপানের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-২৭ ২২:৪৮:০০
image

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বাংলাদেশের সঙ্গে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত তারেক রহমানের সরকারের জাতি গঠন ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগে জাপানের দৃঢ় সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, রেল ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথভাবে আলোচনার ফলাফল ঘোষণা করেন এবং পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন।
বৈঠকের পর নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় সানায়ে তাকাইচি বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে জাপান আগ্রহী। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানানোর সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্র গঠন ও জাতীয় উন্নয়নের উদ্যোগকে তার দেশ দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে টোকিওর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বার্তা উঠে এসেছে।
তাকাইচি একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতেও বাংলাদেশকে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে টোকিও।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি উদ্যোগকে নতুন মাত্রায় নেওয়ার সিদ্ধান্তও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। বিদ্যমান এই সহযোগিতা কাঠামোকে দুই দেশের নেতাদের নেতৃত্বে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির নতুন কৌশলগত উদ্যোগে উন্নীত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। নতুন কাঠামোর আওতায় অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের বড় ও তরুণ জনগোষ্ঠীকেও জাপানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বড় বাজার দেশটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও জাপানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপানের স্বীকৃতি এবং স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশটির ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশকে জাপানের জনগণের জন্য একটি বিশেষ অংশীদার হিসেবেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন।
এ সফরের অর্থনৈতিক দিকটিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈঠকে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় উঠে এসেছে। বাংলাদেশে জাপানের সম্ভাব্য বড় আকারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে এর আগে জাপানি সংবাদমাধ্যমে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, সেটিও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ওই বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছিল।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা এবং বড় পরিবহন অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশে শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে জাপানি সরকার ও বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে কান্তেইতে দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠক শুরু হয় এবং প্রায় ২৫ মিনিট ধরে চলে। এরপর যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ‘জাপান-বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করা হয়। 
সানায়ে তাকাইচি বলেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় এবং ঘোষিত যৌথ বিবৃতির ভিত্তিতে সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনের এই শীর্ষ বৈঠক তাই শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং দুই দেশের রাজনৈতিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতাকে একই কাঠামোর মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার একটি নতুন রূপরেখা সামনে এনেছে। বিশেষ করে বিগ-বিকে ‘শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ উদ্যোগে রূপান্তর, জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অবকাঠামো-প্রযুক্তি-জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

তারেক রহমান জাপান সফর, সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠক, BIG-B