"ধ্যাততেরিকি" (শ্রুতিনাটক)

  • গীতশ্রী সিনহা
  • ২০২৬-১০-২৭ ২২:৩৪:৩৭
image

চরিত্র --- ১) কলমিলতা ( কাজের লোক ) 
               ২) শাশুড়ি       (  শান্তি ) বাঙাল ভাষার টান
                ৩) বউমা        ( দিয়া ) 

শাশুড়ি ----- গুনগুনিয়ে রবীন্দ্রসংগীতের লাইন গেয়ে চলেছে আপন মনে,
"যখন বেলা -শেষের ছায়ায় পাখিরা যায় আপন কুলায় মাঝে, 
সন্ধ্যাপুজার ঘন্টা যখন বাজে..... "
বউমা ----- উফ কী কু'ক্ষণে যে আপনার নাম "শান্তি" রাখা হয়েছিল?  সাতসকালে সন্ধ্যাপুজার ঘন্টা বাজিয়ে চলেছেন! 
কেন বাবা সকাল সকাল ঠাকুরের নাম করতে পারেন না ? ওই যে মাকালীর ওই... ওই গানটা করুন না !  মনে হয় তো জীবনের ইচ্ছা কিছুই পূরণ হয় নি ? 
শাশুড়ি ----- করো বউমা তুমিও আমার সাথে করো। 
" সকলি তোমারি ইচ্ছা - ইচ্ছাময়ী তারা তুমি, তোমার কর্ম তুমি করো মা লোকে বলে করি আমি " ( কষ্ট করে গলা মেলালো বউমা ) 
কলমিলতা ----- আরে ব্যাস !!!  সকাল থেকে জি বাংলার সারেগামাপা !!! ( দ্রুত ) 
ধ্যাততেরিকি, যত ভাবি কথা কম বলবো... 
শাশুড়ি  ------ তুই চুপ কর দেখিনি!  টিকটিকির মতো টিকটিকি করেই চলিস! 
               বউমা ও বউমা ( গলা উঁচিয়ে )  খোকা ঘুমাচ্ছে, তুমি সাতসকালে        সন্ধ্যাপুজার ঘন্টা শুনে উঠে গেলে বুঝি ? 
বউমা ----- একটু কাজ আছে, তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে আজ। 
শাশুড়ি ----- আজ কী বার বউমা?  কতো সাধ করে ঘরে তুললাম, সুখে ঘরসংসার করবে। 
কলমিলতা ----- একি !  ভুলে গেলে গিন্নী মা ?  বউমনি তো নিজেই দাদার হাত ধরে  ঘরে উঠেছে ? এই দেখো ঠাকুর ঘর থেকে বাংলা-ইংরেজি ক্যালেন্ডার নিয়ে এলাম, রবিবার দেখাচ্ছে গো আজ। 
শাশুড়ি ------ সে তো আমিও জানি, কিন্তু বউমা...  কী বলি বলো তো তোমাকে ? 
বউমা ------ আ-রে বা-বা, রোববার কোনো কাজ থাকতে পারে না বুঝি ? 
শাশুড়ি ----- সারা সপ্তাহ অফিসের পর ছুটি থাকবে না? খোকা আমার, ঘরে আজ... 
কলমিলতা ----- রোববারেই তো দাদাবাবুর সাথে একটু এদিক-সেদিক ---- একটু- আধটু ঠাট্টা-তামাশা করার দিন ( হিহিহিহি হাসি ) কি গো বৌদি মনি ???? 
শাশুড়ি ----- লতা, যা দেখি, খাসা করে চা কর সকলের জন্য !  বড্ড কথা হয়েছে তোর ( বিরক্তি কন্ঠ)। 
কলমিলতা ----- গিন্নী মা, নাম ঠিক করে বলো কিন্তু !  তোমাদের কলমি পাতেও খায় আবার গাছেও বায়, লতা বলে নরম ভেবো না আমাকে ! 
শাশুড়ি ---- সাতসকালে মাথা খারাপ করিস না, যা দেখি নি চা নিয়ে আয় কড়া করে। 
বউমা ----- বসে বসে চা খাওয়ার সময় নেই, আমি একদম ব্রেকফাস্ট করে নেবো, এত্তো ভনিতা আমার পোষায় না বাবা !
শাশুড়ি ------ বলছিলাম কী বউমা...  সারা সপ্তাহ তো অফিস... আবার বেশ রাত করেও বাড়ি ফেরো.... তাছাড়া বউমা...  তোমার অমন পোশাক- আশাক  নিয়ে...  আসলে...  কী বলি...  বউমা...  মানে....
বউমা ----- ঝেড়ে কাশুন (২) তো দয়া করে ?  আসল কারণ কোনটা ? রাত করে ফেরা - আপনার ছেলে, নাকি পোশাক আশাক?????  
শাশুড়ি ----- থামো বউমা, থামো, থামো...  বহ্নি নাম বদলে আমি দিয়া নাম রাখলাম, যাতে তুমি আমার সংসারের প্রদীপ হয়ে জ্বলজ্বল করো।
কলমিলতা ----- এ-এ-তো দিনে বুঝলাম বহ্নি বৌদিমনি রাতারাতি কেন দি...য়া হয়ে  উঠলো ?  কেন বাবা আমার নামটা পাল্টাতে পারো না ?  জলাপুকুরে আমার জন্ম, সে-ই কবে থেকে এক-ই নাম ?  রাতের বেলায় জ্বর আসে জলে থেকে থেকে। 
শাশুড়ি ----- চুপ কর দেখি লতা?  আর ক..থা বাড়াস নি! 
দেখো বউমা ( গলা নামিয়ে )  নতুন জায়গা, লোকজনের উঁকিঝুঁকি বুঝতে পারি, মুখে বলে না,কতো প্রশ্ন ওদের মনে মনে... 
বউমা ------ আপনিও তো হাতা কাটা ব্লাউজ পরে আছেন মা ? 
শাশুড়ি ------ আমার বয়স আর তোমার বয়স বউমা? 
বউমা ----- আপনি তো কতোদিন গায়ে জামা না দিয়ে বার্থরুম থেকে.... 
শাশুড়ি ----- আমি বোধহয় তোমাকে বোঝাতে পারছি না বউমা? আসলে বউমা,খোকা এতো বড় অফিসার...  একটা প্রেস্টিজ তো আছে ? 
বউমা ------ হ্যাঁ হ্যাঁ এইজন্যই তো অতোবড় অফিসার প্রতিদিন সুধাকর  হয়ে লিফটে না উঠে সিঁড়ি দিয়ে টলতে টলতে আসে????  
শাশুড়ি ----- চুপ করো বউমা, আস্তে বলো ( গলা নামিয়ে ), আমিই খোকাকে না করেছি, লিফটে আটকে গেলে তো বিপদ !!!! 
বউমা ----- এই আপনাদের জন্য মা, ঠিক আপনাদের জন্য ( গলা উঁচিয়ে )  মেয়েরা অল্প পোশাকে বেশ্যা আর ছেলেদের অল্প পোশাকে সাধু সাধু !!! 
শাশুড়ি ----- অমন বড় পোস্টে কাজ করলে একটু - আধটু.... 
বউমা----- আমিও কম বড় পোস্টে কাজ করি না মা ? তবে কথা দিলাম আমিও সিঁড়ি দিয়ে আসবো ও-ই টলতে টলতে... 
শাশুড়ি ----- মুখের লাগাম দাও বউমা, এমন কাজটি ভুলেও করো না, 
বউমা ----- মা আপনার জন্যও নিয়ে আসবো, ঘরে বসেই ঢুক ঢুক !  খাবেন মা, নিয়ে আসবো? ছেলে সুধাকর আর মা সুধাময়ী.....  এবার জমবে মজা !!! 
শাশুড়ি ------ ও - হ !  তোমার বাবা সারাজীবনে যা পারলেন না !!! 
বউমা ------ বাবাও কী সুধাকর ছিলেন মা ?  বাবা খেতেন মা ? 
শাশুড়ি ----- ওই প্রতি মাসে মাইনের দিন একটু - আধটু...  খোকা কে বলো না কিন্তু! 
বউমা ----- আমিও এক-আধদিন খেলে খোকাকে বলবেন না কিন্তু ! 
কলমিলতা ------ আমি একটা কথা বলতে পারি ? যত ভাবি চুপ থাকবো ! তোমাদের বাজার করে ফেরার সময় হাতে টাকা ছিলনা, তাই কাঁচা লঙ্কা কেনার সময় সব টাকা দিয়ে চলে এসেছি, ক'টা খুচরো রেখে আর কী হবে ? 
বলে দিলুম বাজারের পুরো হিসেব কিছু দিতে পারবো না গিন্নী মা। 
শাশুড়ি ------ চাই না হিসেব, তুই মুখ বন্ধ রাখ দেখিনি। 
কলমিলতা ----- ধ্যাততেরিকি ( জোরে সাথে ) ! আমাকে শুধু চুপ করিয়ে রাখে !  কলমিরও কথা থাকতে পারে গো  ( গলা উঁচিয়ে ) 
দেখো, আজ বিশ্ব কাজের লোক দিবস, আজ আমার কথায় কোনো ট্যাক্স বসবে না। এদিকে সকাল সকাল জ্যামে আটকে ছিলাম.....  সেটা কী বলেছি? 
শাশুড়ি ----- বউমা ও বউমা কাছে এসো মা, এবার একটু সংসারে মন দাও মা । 
কলমিলতা ----- ওই যে তোমরা কী সব কারণ সুধার কথা বলছিলে না ?  আমার  স্বামী তো বলে ভগবানের চরণামৃত, দাঁড়াও দাঁড়াও বলছি...  ধ্যাততেরিকি, ঠিক সময় কিছু মনে আসে না বাবা !!!  পড়েছে পড়েছে মনে...  অমৃত গো অমৃত ! 
শাশুড়ি ----- রাখ তো তোর কারণ - অকারণ সুধা। 
বউমা ----- আপনি না হয় মা এবার থেকে অকারণে সুধা পান করুন, আমি সাপ্লাই দেবো, না না কাকপক্ষী জানতে পারবে না ! 
শাশুড়ি ------ বউমা এবার একটু হামাগুড়ি দেখতে চাই মা, ঘরগৃ্‌হস্থ সুখের হবে !  
বউমা ------ হামাগুড়ি? বেশ তো মা, ভালো ব্যায়াম হবে, হামাগুড়ি, দাপাদাপি সব করুন। ঘরগৃহস্থালী চঞ্চল হবে,সুখের হবে মা। 
শাশুড়ি ----- চার বছর পার হয়ে গেল, খিলখিল হাসি দেখলাম না 
বউমা ----- কলমি ও কলমি তোর গিন্নী মা-কে খিলখিল হেসে দেখিয়ে দে তো।
কলমিলতা ----- ধ্যাততেরিকি !!!! সেই ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলো ! 
বউমা ----- আচ্ছা মা আপনার তো পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবনে ওই একটাই খোকা, আমারও তাই হবে ...! 
শাশুড়ি -----আমি বৃদ্ধাশ্রম চলে যাবো। 
কলমিলতা ----- আমি বাবা বৃদ্ধাশ্রম গিয়ে তোমায় দেখাশোনা করতে পারবো না !  ধ্যাততেরিকি যতসব ঝামেলা। কলমি তুই মর রে মর, মর মর মর... আমি কিন্তু ম্যাসিন না ? এবার থেকে জিরিয়ে জিরিয়ে কাজ করবো।
বউমা ------ নিজের ছেলের দোষ দেখতে শিখুন মা। ছেলে বাড়ির কাজ করবে না, সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখবে, ছেলে বড় চাকরি করে, 
খোকা আমার চিরকাল ছন্নছাড়া, তারবেলা মানিয়ে নিতে হবে আমাকে। 
শাশুড়ি ------ আমিও তো ছেলে দোষ দেখি বউমা ! 
বউমা ----- হ্যাঁ, হ্যাঁ দেখেন মা দেখেন, যদি দেখেন খোকা আমার সাথে ফিসফিস করে কথা বলছে, আদর আহ্লাদ করছে চুপিচুপি... 
"খোকা বউয়ের সাথে এতো আদিখ্যেতা করিস না, তুই না পুরুষ" !!!! 
শাশুড়ি ----- কথাটা কী মিথ্যে বউমা? আমাদের সময় সে-ই রাতে গিয়ে দুটো কথা বলতে পারতাম। 
বউমা ------ আপনাদের কথা ছাড়ুন তো? একগাদা দেওর - ভাসুর কতো ফস্টিনস্টি হতো আপনাদের সময়ে। একটা দেওর-ও নেই যে একটু মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে। একটা মাত্র শ্বশুর ছিল --- তাও অকালে চলে গেলেন। 
শাশুড়ি ----- শ্বশুর একটা মাত্র ই হয় বউমা। 
বউমা ------ আপনি কিন্তু লাইফটাকে ব্যাপক enjoy করেছেন মা,  my dear শ্বশুর 65 years এ ও কী রোমান্টিক....  উফ কী... 
শাশুড়ি ----- তাঁকে তো ছাড়ো বউমা, অকালে চলে গেলেন... 
বউমা ----- বারে, আমি তো প্রশংসা করছি, আসলে আপনি খুব জেলাস, শ্বশুর মশাইয়ের সুখ্যাতি নিতে পারেন না । 
শাশুড়ি ----- সুখ্যাতি ?  বুড়ো বয়সে ভীমরতি !  আমি চা দিলে বউরানী কোথায়? আমি খেতে দিলে বউরানীর খোঁজ, এমনকি স্নানের সময় গরম জলটা বউরানীকেই দিতে হবে ? কেন বাবা আমাকে কী চোখে দেখা যায় না ? 
কলমিলতা ----- কলমি মুখ বন্ধ রাখতে পারে না, ধ্যাততেরিকি !!!!  
বাবু কতো জিনিস আনতো লুকিয়ে লুকিয়ে চপ, ব্লাউজ,শাড়ি আমি সব দেখতাম গো গিন্নীমা, বড় ভালোবাসতো তোমাকে গিন্নী মা।
শাশুড়ি ---- নরম মনের মানুষ ছিল যে ! 
বউমা ------ নিজের বউ বুড়ি হলে ওরকম একটু-আধটু হয় --- এ-এ-তে দোষ নেই! 
মা আপনি কোনোদিন প্রেম করেছেন? 
শাশুড়ি ---- ইস !  কাকে কী বলতে হয় জানো না বউমা? 
বউমা ----- না, আসলে আপনাদের তো অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে, এত্তো বড় লম্বা জীবন....  একটু এদিক-সেদিক, ঠাট্টা-তামাশা, ইন্টু-মিন্টু.....
শাশুড়ি ----- না না সে রকম কিছু না, তবে তোমার শ্বশুরের এক বন্ধু মনে হতো দুর্বল ছিল
বউমা ---- কী করে বুঝলেন মা ? 
শাশুড়ি ----- সে-রকম কিছু না। 
বউমা ---- বুঝেছি বুঝেছি ফাঁকা পেয়ে হাত ধরেছিল? 
শাশুড়ি ---- না...  পা.... 
বউমা ----- শেষ পর্যন্ত পা????  দূর কী ভাবলাম... আর কী হলো? 
শাশুড়ি ----- পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন
কলমিলতা ---- ধ্যাততেরিকি ধ্যাৎ ( বেশ কায়দা করে ) যা কলমি যা, গিয়ে কাজ গুছিয়ে নে, এসব কথায় তো আর পেট ভরবে না ? 
শাশুড়ি ---- আর আমি তো দৌড়ে পালাতে গিয়ে কাপড়ে আটকে ওনার ঘাড়ের ওপর পড়ে যাই ( হাসি )  উফ কী লজ্জা কী লজ্জা ! 
বউমা ----- ইস কী শিহরণ !!! 
শাশুড়ি ---- বউমা?  এর ভিতরে শিরহণের কী দেখলে মা ? 
বউমা---- হয় মা হয়, এই দেখুন না কাল রাতে লিফটে লোডশেডিং হয়ে গেল, Mr. Romeo আর আমি, পুরুষ মানুষ ভয় পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, তবে এক মিনিট। লাইট এসে গেল যে ! 
শাশুড়ি ----- এক মিনিট মানে ষাট সেকেন্ড ! রমিও কে বউমা?  
বলেছো খোকা কে ? 
বউমা ----- শেক্সপিয়রের নাটকের রোমান্টিক হিরো। আপনি না কী?  বলা যায় এ কথা?  আপনি বলেছিলেন কর্তার বন্ধুর ঘাড়ে পড়ার কথা?
শাশুড়ি ------ কোথায় থামতে হয় তোমরা জানো না বউমা? 
বউমা ---- কোথায় শুরু করতে হয় আপনারা জানতেন না মা। মেয়েবেলা থেকে নিজেদের ইচ্ছে- অনিচ্ছের দাম দেন নি, বাপের বাড়িতে বাবা-কাকা, আর বিয়ের পর পুরুষ দেবতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতো আপনাদের ভালো লাগা মন্দলাগা। 
আর এদিকে হাজার টাকার ঝাড়বাতিতে তাদের রাত কাটতো,বুঝেও না বোঝার ভান করতেন ! 
কলমিলতা ----- না বলেও যে পারি না ?  চওড়া লালপেড়ে শাড়ি আর কপালে  সিঁদুর  ল্যাপা ঘরের মেয়ে মানুষ আমরা --- ধ্যাততেরিকি... ধিক্কার এই জীবনের ! 
বউমা ----- চললাম মা, আপনার খোকাকে বলে দেবেন over time আছে, ফিরতে লেট হবে। 
শাশুড়ি ------ বেশ তো ছিলাম আমি বউমা, আমার মাথাটা চিবিয়ে না খেলেই কী হতো না??? 
বউমা----- এম টিভি দেখুন, ফ্যাসান প্যারেড দেখুন...  ভুলে যান মা, বয়সটা। প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন, enjoy মা enjoy. দেখি যাওয়ার আগে ফাইনালি আপনাকে একটা হামি খেয়ে যাই।
শাশুড়ি ----- ছাড়ো বউমা ছাড়ো একটা পাগলি কোথাকার। 
সত্যি কতো কি যে শেখার আছে মেয়েটার থেকে ( মনে মনে বলতে থাকে শান্তি দেবী। 
গলা উঁচিয়ে বলে ---- না বউমা তুমি বহ্নি, দিয়া না....
কলমিলতা তুই আমাদের স্বর্ণ রে স্বর্ণলতা, লতার মতো জড়িয়ে রেখেছিস আমাদের সংসার কে। 
বাইরে গাড়ির হর্ন মিলিয়ে যায় দূরে.............