পাখি ও ঔষধী গাছ বাঁচাই,জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করি

  • নাজমুন নাহার
  • ২০২৬-১০-২৭ ১৭:৪৯:৪০
image

ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ (আইডব্লিউবি) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট) যৌথভাবে আজ ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলে শিশুদের জলবায়ু বিপর্যয় বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে “পাখি ও ঔষধী গাছ বাঁচাই, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করি” শীর্ষক একটি পোস্টার প্রদর্শনী ও পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ১৫০ জন শিশু অংশগ্রহণ করে।
এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক জনাব এম এ মান্নান মনির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট) এর প্রধান কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান। পোস্টার প্রদর্শনীতে স্থানীয় পাখি, ঔষধী গাছ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরার পাশাপাশি আলোচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
পরিবেশবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতাটি সঞ্চালনা করেন ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা জনাব জাকারিয়া মোহাম্মদ। এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা প্লাস্টিক দূষণ, বন উজাড়, পাখি ও গাছের বাসস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ-ফলাফল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব এম এ মান্নান মনির বলেন,“শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক বুঝতে শেখে, তবে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে তাদের আচরণে স্থায়ী পরিবর্তন আনবে।”
আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জনাব সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন,“জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিশুদের পরিবেশ শিক্ষা দিতে পারলে তারা ভবিষ্যতে সচেতন নাগরিক হিসেবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিতে পারবে। কারণ পরিবেশ শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়-এটি একটি জীবনদর্শন।”
অনুষ্ঠানে ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকারা আরও উল্লেখ করেন,আইপিসিসি বলছে, প্রযুক্তি বা নীতিমালা যথেষ্ট নয়-মানুষের দৈনন্দিন আচরণের পরিবর্তন অপরিহার্য, যা সবচেয়ে কার্যকরভাবে আসে শৈশব থেকে।
১৯৬টি গবেষণা এবং ১,৭৬,০০৭ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখিয়েছে, পরিবেশ শিক্ষা জ্ঞান, মনোভাব ও আচরণে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
শিক্ষিকারা আরও বলেন, স্কুলের বাগানে কাজ করা, পাখি পর্যবেক্ষণ, বর্জ্য পৃথকীকরণ, কম্পোস্ট তৈরি বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো হাতে-কলমে কাজ শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম করে। ইউনেস্কোর পরিবেশ ও জলবায়ু শিক্ষাবিষয়ক ঘোষণার পাঁচটি স্তম্ভ-জ্ঞান, সচেতনতা, দৃষ্টিভঙ্গি, দক্ষতা ও অংশগ্রহণ-এই আয়োজনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।
ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ (আইডব্লিউবি) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট) জানায়,“পরিবেশ শিক্ষা এখন আর বিলাসিতা নয়-এটি সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আজকের শিশুদের হাতে পরিবেশ শিক্ষার শক্তিশালী হাতিয়ার তুলে দিতে পারলেই ভবিষ্যতের জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত হয়ে উঠবে।”
এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ (আইডব্লিউবি) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট) এর কর্মকর্তাগণ এবং ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকাগণ।