বেঁচে আছি !
বিকেলের কাছে এই আমার জবানবন্দি।
সকাল আমাকে খুঁজতে আসে না,
আমি তার ঠিকানা ভুলে গেছি।
অথচ একদিন আমার বুকের ভিতরেই
ভোর হতো !
রাত্রি এসে সেখানে তার
কালো আলখাল্লা বদলে যেত।
এখন প্রতিটি বিকেল
আমার বয়স থেকে কিছুটা রং তুলে নেয়।
আমি হাত পাতি না আলোর কাছে,
শুধু দেখি ! কতখানি অন্ধকার হলে,
একটি ছায়াকে নিজের বলে চালানো যায়।
আমার মনের কথারা ভোরের আকাশে গাঁথা ছিল !!
এখন তাদের গায়ে সময়ের ধুলো, পাখির ঠোকর।
চড়ুইেরা এসে খুঁটে নেয় ভাঙা নুড়ি, ইট, চুন !!
যে প্রাসাদ একদিন ভেবেছিল
তার পতনের পরেও পৃথিবী থেমে থাকবে।
কোনও আকস্মিক ভুলে
যদি এ বিকেল সমুদ্র হয় !!
আমি ডুবব না !!
তার বুক থেকে তুলে আনব
আমার ফেলে আসা সকালগুলো।
যে সকাল একদিন দরজা খুলেছিল,
যে সকাল কোনও নাম না-জেনেই
আমার সমস্ত নাম বদলে দিয়েছিল।
অথচ নদী হওয়ারও
একটি নিষ্ঠুর স্বাধীনতা আছে !!
সে বয়ে যেতে পারে,
কাউকে সঙ্গে না নিয়েও।
আমার ছায়া সেই স্বাধীনতা জানে।
সে আমার পায়ের কাছে থাকে না,
আমাকে ছেড়ে দূরে সরে যায়।
কখনও মনে হয়,
আমিই তার পিছনে হাঁটছি
কোনও এক হারানো বিকেলের দিকে।
খেয়া নেই।
পারাপারের কোনও চুক্তিও ছিল না।
তবু এতকাল আমি জলের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
ডুবে যাওয়াও কারও ফিরে আসার একটি পদ্ধতি।
আজ আর কাউকে ডাকি না।
শুধু বিকেল নামলে
নিজের ভিতরে একটু জায়গা খালি রাখি !
যদি কোনওদিন সকাল ভুল করে
সেখানে এসে বসে !!
আর যদি না আসে?
তবে এই ছায়াই থাক।
তার কোনও জন্মদিন নেই,
মৃত্যুর তারিখও নেই।
কিছু বিরহের শেষ হয় না !!
তারা কারও জন্য অপেক্ষা করে না ,
অপেক্ষা করাটাকেই নিজের
শেষ জীবিত পরিচয় করে রাখে।