ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া অংশে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন যাত্রী।
গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডুমুরিয়ার ১৮ মাইল ডাঙ্গীর পার এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১টার দিকে একই সড়কের ১৮ মাইল বাসস্ট্যান্ডে দূরপাল্লার বাস ‘ইমাদ পরিবহন’-এর চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হন। পর পর দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বুধবার দুপুরে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস (সাতক্ষীরা জ-১১-০০৯৬) এবং বিপরীত দিক থেকে আসা খুলনাগামী ক্রাউন সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের (নারায়ণগঞ্জ উ-১১-০০২৬) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের ভেতর থেকে রক্তাক্ত ৪০-৪২ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বিকেল ৪টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ক্রেনের সাহায্যে উল্টে যাওয়া বাসের নিচ থেকে ২ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ট্রাকচালক নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা জিন্নাত (৪৭) ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ট্রাকচালক ব্যতীত অপর ৩ জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে দিবাগত রাত সাড়ে ১টার দিকে ১৮ মাইল মোড়ে রাস্তা অতিক্রম করার সময় বেপরোয়া গতির দূরপাল্লার 'ইমাদ পরিবহন'-এর চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহতরা হলেন— ডুমুরিয়ার নরনিয়া গ্রামের বারিক গাজীর ছেলে ও চুকনগর মালতিয়া মোড়ের ‘গাজী ইয়াছিন মৎস্য আড়ৎ’-এর স্বত্বাধিকারী আবদুর রউফ গাজী (৪৫) এবং একই গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে ওই আড়তের কর্মচারী ইউনুস সরদার (২৪)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবরও ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া এসিজিবি স্কুলের সামনে ইমাদ পরিবহনের অপর একটি বাসের ধাক্কায় শোভনা ইউনিয়নের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মিলন কুমার ভদ্র (৫৩) নিহত হন। একই মহাসড়কে বারবার বেপরোয়া গতি ও প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ ছাড়া দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব নয়।
খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনশি পারভেজ হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পানির নিচে বা খাদে আর কোনো মরদেহ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।