যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল ট্রাম্প প্রশাসনের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-২১ ১১:৪৩:৪৫
image

অপরাধ, জালিয়াতি ও অভিবাসনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসা বাতিলের এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সহিংসতা, জালিয়াতি, ভুল তথ্য দেওয়া এবং অভিবাসন আইন অমান্য করার অভিযোগে অধিকাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ভিসার যোগ্যতা হারানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশের প্রবণতার বিরুদ্ধেও নজরদারি বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। জন্ম পর্যটন হিসেবে পরিচিত এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বা সহযোগিতার অভিযোগে চার হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে শারীরিক হামলা ও এ ধরনের সহিংস অপরাধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে বাতিল হয়েছে ২২ শতাংশ ভিসা। এ ছাড়া চুরির ঘটনায় ৭ শতাংশ এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ বা মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আরও ৭ শতাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, আইন লঙ্ঘনকারী কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ভিসা বাতিলের সংখ্যা কয়েক ধাপে বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিলের তথ্য জানানো হয়। আগস্টে এ সংখ্যা এক লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ হিসাবে তা তিন লাখের বেশি হয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও কঠোর করেছে মার্কিন প্রশাসন। আবেদনকারীদের পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের কার্যক্রমও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের এ নীতির সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত নজরদারি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ অভিবাসীদের বৈষম্য ও অযাচিত হয়রানির মুখে পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র, ভিসা বাতিল, অভিবাসন