গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের এক সভা থেকে উপরোক্ত দাবি জানানো হয়। আজ সকাল ১০টায় তোপখানা রোডস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশু। সভায় উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন শ্রমিক নেতা এ্যাড. মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল, শামীম ইমাম, রাজু আহমেদ, মাহমুদ হোসেন, এ এম ফায়েজ হোসেন, মো. ইয়াসিন, শহীদুল ইসলাম সবুজ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন -বেশ কিছুদিন যাবৎ উত্তরা, গাজীপুর, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ৩০হাজার টাকা নিম্নতম মজুরির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাড়ী ভাড়া, গাড়ী ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুতের অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধিতে শ্রমিকদের জীবন অতিষ্ঠ। তাই শ্রমিকরা জীবন বাচানোর দাবি নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু সরকার শ্রমিকদের দাবির প্রতি কর্ণপাত না করে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। পুলিশ শ্রমিকদের উপর নিষ্ঠুর হামলা-দমন-নিপীড়ণের পথ বেছে নিয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সভায় শ্রমিকদের উপর হামলার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করা হয়।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন -দ্রুত নতুন মজুরি ঘোষণা না করে, দমন-পীড়ণের পথে হাটলে বা কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিক আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। যার দায়ভার সরকার ও মালিকপক্ষকেই নিতে হবে।
সভায় চলতি মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করার আহবান জানানো হয়।
এছাড়াও নেতৃবৃন্দ আশুলিয়ার ডেকো গ্রুপের কারখানা আগামী এ্যাপারেলসের শ্রমিক সুমি আক্তার মিশুকে অসুস্থতায় ছুটি না দিয়ে, ছুটির দিনেও কাজ করতে বাধ্য করা, তার সাথে কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সভায় সুমির মৃত্যুর জন্য দায়িদের গ্রেফতার-বিচার ও সুমির পরিবারকে এক জীবনের আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান।
অব্যাহত শ্রমিক নির্যাতন, দমন-পীড়ণের বিরুদ্ধে ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।