বিতর্কিত কর্মকর্তাদের আত্তীকরণ না করে বাধ্যতামূলক অবসর ও নতুন নিয়োগের দাবি

  • মোঃ রেজাউল করিম
  • ২০২৬-১০-১৭ ২০:৫৬:১২
image

সেসিপ/এসইএসডিপি (SESDP) প্রকল্পের অধীনে গত ২০০৭ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত একশ্রেণীর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিগত বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে চরম দলীয় পক্ষপাতিত্ব, অধীনস্থ শিক্ষকদের ভোট জালিয়াতিতে বাধ্য করা এবং সরকারি গোপনীয়তা ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাদের রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে, বর্তমান সরকারকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এসব বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে নতুন, মেধাবী ও যোগ্য লোক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
আজ ১৭ অক্টোবর ২০২৬ এক বিবৃতিতে 'উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও সচেতন নাগরিক সমাজ' এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৭ সালে এই প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এই কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। বিশেষ করে ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে তারা সরাসরি ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে অবস্থান নেন। তারা তাদের অধীনস্থ শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রিজাইডিং এবং সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দিয়ে জোরপূর্বক ভোট চুরির নির্দেশ দাতা হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। শিক্ষকদের পেশাগত নৈতিকতা ধ্বংস করে স্বৈরাচারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা মাঠপর্যায়ে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন।
বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, "জানা যায় ১২২ জনের একটি ফাইল আত্বীয়করনের জন্য মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে জেঁকে বসা এই সমস্ত বিতর্কিত কর্মকর্তাদের যদি বর্তমান সরকারের অধীনে রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ (স্থায়ীকরণ) করা হয়, তবে তা দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য চরম আত্মঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এরা এখনো প্রশাসনের ভেতরে থেকে বর্তমান সরকারকে অসহযোগিতা করছে এবং সরকারি বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য ও নথি বাইরে পাচার করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ছিল বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়া। অথচ বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসরদের আত্তীকরণ করার প্রক্রিয়া চলমান থাকলে তা শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করার শামিল হবে।
আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবিসমূহ:
• আত্তীকরণ বাতিল: ২০০৭ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট এসইএসডিপি কর্মকর্তাদের কোনোভাবেই রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ করা যাবে না।
• বাধ্যতামূলক অবসর: বিগত নির্বাচনগুলোতে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করা এবং বর্তমান সরকারকে অসহযোগিতা করার অপরাধে তাদের প্রকল্প থেকে অবিলম্বে বাধ্যতামূলক অবসর দিতে হবে।
• তদন্ত ও বিচার: নির্বাচনী জালিয়াতি এবং সরকারি গোপনীয়তা ফাঁসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
• নতুন নিয়োগ: শূন্য পদগুলোতে দেশের বেকার, মেধাবী, যোগ্য এবং সৎ যুবসমাজকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
সচেতন নাগরিক সমাজ ও শিক্ষক সমাজ মনে করে, শিক্ষা প্রশাসনকে কলঙ্কমুক্ত এবং নতুন প্রজন্মের উপযোগী করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখনই কঠোর ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।