আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের, রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-১৫ ০৯:২০:৪৪
image

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। একই সময়ে রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এসব ঘটনায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বুধবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ধাহরানে আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং রাজধানীর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ধাহরানে আরামকোর একটি ভবনে হামলার ঘটনায় সীমিত অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে দাবি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মীও রাতের বেলায় সদর দপ্তরের একটি টাওয়ারে আঘাত হানার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের একজনের ভাষ্য, ভবনটির ওপরের তিনটি তলা ধ্বংস হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর অবস্থিত। অসংখ্য ভবন ও আবাসিক স্থাপনা নিয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল কেন্দ্র সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। শহরটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পাশাপাশি আকাশে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ার রেখা দেখা গেছে। মুঠোফোনে পাঠানো সতর্কবার্তায় আকাশপথের হুমকির কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হুতিদের মুখপাত্র পরে দাবি করেন, রিয়াদ বিমানবন্দরেও আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা হচ্ছে। শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। ২০১৫ সালের পর দেশটিতে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন তেল স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান, সৌদি আরব, ইয়েমেন, দক্ষিণ লোহিত সাগর ও নৌপথের জন্য হুমকি তৈরি করতে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলো ছিল এসব হামলার লক্ষ্য।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজধানী সানায় জ্বালানির সংকটের আশঙ্কায় পেট্রল পাম্পের সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদের সড়কে যানবাহনের চলাচল কমেছে। স্কুলগুলোতে দূরশিক্ষণ চালু করা হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৌদি ফুটবল লিগ তিনটি খেলা স্থগিত করেছে। আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা থাকা সিক্স কিংস স্ল্যাম টেনিস প্রতিযোগিতাও পিছিয়ে ডিসেম্বর মাসে নেওয়া হয়েছে।
তবে চলতি মাসের শেষ দিকে রিয়াদে বড় বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। ‘মরুভূমির দাভোস’ নামে পরিচিত এ আয়োজনে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণের সুযোগ এবং বিকল্প আকাশপথ ও স্থলপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের কারণে সৌদি আরবের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনও চাপের মুখে পড়েছে। লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা দেশটির বিকল্প রপ্তানি পথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সৌদি আরব, হুতি হামলা, আরামকো