প্রত্যেকের ব্যক্তিগত উদ্যোগ সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিরা অন্যদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করেন।
বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ নিজ কর্মের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎ করা ব্যক্তিরা হলেন বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকলেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং প্রায় তিন দশক ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসা রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সাক্ষাতে তিনজনের জীবনসংগ্রাম ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারেক রহমান। তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে কাজ অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ গঠনে এ ধরনের মানুষের প্রয়োজন রয়েছে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে দেশ গঠনের কাজ আরও সহজ হবে।
প্রকৌশলী ও ব্যাংকার থেকে শিক্ষক নায়লা
বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নায়লা শারাফ। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।
গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শেখার সুযোগ সহজ করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন শিক্ষাসামগ্রী ও ডিজিটাল পাঠ্য উপকরণ।
পা দিয়ে লিখে বিদ্যালয় পরিচালনা করেন আলতাফ
জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে গড়ে তুলেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। আলতাফের কথা শুনে নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন বাবুল
ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল ইমামতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষরোপণে কাজ করছেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।
পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখানকার চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন বাবুল। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় তাঁর এই প্রচেষ্টা স্থানীয় পর্যায়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
তিনজনের কাজের অভিজ্ঞতা শুনে প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। সমাজের কল্যাণে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা আরও বিস্তৃত হলে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে তা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাজকল্যাণ, অনুপ্রেরণা, বৃক্ষরোপণ