মহেশখালীতে উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী,অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ঘিরে নতুন প্রত্যাশা

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৬-১০-১৪ ২২:৪৩:২৮
image

মহেশখালী (কক্সবাজার) 
মহেশখালীতে  উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী,অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ঘিরে নতুন প্রত্যাশা!
ধলঘাটা–মাতারবাড়ির   মেগা  প্রকল্পে  গুরুত্ব; অব- কাঠামো উন্নয়ন,কর্মসংস্থান ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করার দাবি। 
মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ও মাতারবাড়িতে চলমান  বৃহৎ  উন্নয়ন  প্রকল্প  পরিদর্শন  করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশ   সরকারের  পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি এমপি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর)  তাঁর এই  সফরকে  কেন্দ্র করে  মহেশখালীর   মাতারবাড়ি  গভীর  সমুদ্রবন্দর,  কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায়   এসেছে। তিনি   মাতারবাড়ীতে  অবস্থিত দেশের   অন্যতম   বৃহৎ   অবকাঠামো   উন্নয়ন  প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শনকালে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর   কয়লাভিত্তিক   বিদ্যুৎ   প্রকল্পের   সার্বিক কার্যক্রম, চলমান  উন্নয়ন  কর্মকাণ্ড এবং প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি  সম্পর্কে  খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মাতারবাড়ী  গভীর  সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র   দেশের    অর্থনৈতিক   উন্নয়ন,  জ্বালানি নিরাপত্তা   এবং   আন্তর্জাতিক   বাণিজ্য  সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা  রাখবে  বলে  সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। প্রতিমন্ত্রীর   এ পরিদর্শনকে   কেন্দ্র  করে  স্থানীয়ভাবে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি,টেকসই  উন্নয়ন  কার্যক্রম এবং মাতারবাড়ীর   ভবিষ্যৎ   সম্ভাবনা   নিয়ে   আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর সফরকালে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য   আলমগীর   মুহাম্মদ   মাহফুজ  উল্লাহ  ফরিদ ও   উপজেলা   প্রশাসনের   থেকে    তাঁকে     পুষ্পিত   অভিবাদন   ও  ফুলেল   শুভেচ্ছা  জানান মহেশখালী উপজেলা   নির্বাহী  কর্মকর্তা   ইমরান  মাহমুদ ডালিম, সহকারী  কমিশনার  (ভূমি)  রুবাইয়েত আহমেদ এবং মহেশখালীর  তরুণ  বিএনপি নেতা আ স ম জাহেদুল হক নাহিদ,তারেক জুয়েল।
মেগা  প্রকল্পে  বদলে  যাওয়ার সম্ভাবনা মহেশখালীর
একসময়   লবণ,  মৎস্য,  কৃষি  ও   পান চাষের জন্য  পরিচিত মহেশখালী  এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও   সামুদ্রিক   অবকাঠামো    উন্নয়নকেন্দ্র    হিসেবে পরিচিতি   পাচ্ছে।   মাতারবাড়ি    গভীর  সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র,জ্বালানি অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক  অঞ্চলকে  ঘিরে এখানে গড়ে উঠছে বৃহৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা   জাইকার   সহযোগিতায়   মাতারবাড়ি  বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প  বাস্তবায়িত হচ্ছে। গভীর সমুদ্রবন্দরটি চালু হলে বড় আকারের জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা, আমদানি-রপ্তানি   সম্প্রসারণ  এবং  দেশের সামুদ্রিক পরিবহন   সক্ষমতা   বৃদ্ধির   সুযোগ তৈরি হবে।  এর প্রকল্পবিষয়ক   তথ্যেও  ক্রমবর্ধমান  পণ্য পরিবহনের চাহিদা  মোকাবিলায়  এই  বন্দরের  গুরুত্ব  তুলে ধরা হয়েছে।  অন্যদিকে, মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন বৃহত্তর জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।এসব প্রকল্পের সঙ্গে   সড়ক  যোগাযোগ,  পণ্য  পরিবহন, আবাসন ও শিল্পভিত্তিক  সেবা  খাতের  বিকাশের  সম্ভাবনাও যুক্ত রয়েছে।
সমন্বিত উন্নয়নে গুরুত্ব,মহেশখালীকে পরিকল্পিত শিল্প ও বাণিজ্যিক  কেন্দ্রে   রূপান্তরের   লক্ষ্যে মহেশখালী সমন্বিত  উন্নয়ন   কর্তৃপক্ষের (MIDA)  অধীনে বিভিন্ন খাতের   উন্নয়ন   সমন্বয়ের  উদ্যোগ   নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের  সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০২৯  সালের মধ্যে  অগ্রাধিকারভুক্ত নয়টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন  ও  বাস্তবায়ন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য উচ্চ পর্যায়ের   কমিটি   গঠন   করা  হয়েছে। এ উদ্যোগের তাৎপর্য    হলো,  বিচ্ছিন্নভাবে    প্রকল্প   বাস্তবায়নের পরিবর্তে   বন্দর,    জ্বালানি,    শিল্প   ও   যোগাযোগ অবকাঠামোকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করা।  
কর্মসংস্থান ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশাঃ-
মাতারবাড়ীতে বৃহৎ উন্নয়নপ্রকল্প ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা   কেবল   অবকাঠামো  নির্মাণে  সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের   প্রত্যাশা স্থানীয়  তরুণদের   জন্য  কর্মসংস্থান, কারিগরি    প্রশিক্ষণ,   ক্ষুদ্র   ব্যবসার   সুযোগ,  উন্নত
যোগাযোগ  ব্যবস্থা    এবং    শিক্ষা    ও    স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ।  উন্নয়ন    প্রকল্পে    স্থানীয়     জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ  বাড়ানো  গেলে নির্মাণ, পরিবহন, সরবরাহ, আবাসন, পর্যটন   ও  অন্যান্য  সেবামূলক খাতে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগসৃষ্টি হতে পারে।তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে   রূপ   দিতে   স্থানীয়দের  দক্ষতা উন্নয়ন, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া   এবং  ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
উন্নয়নের   পাশাপাশি   পরিবেশ  ও  উপকূল সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ, মহেশখালীর  উন্নয়ন পরিকল্পনায় উপকূলীয় পরিবেশ,  প্রাকৃতিক   সম্পদ   এবং   স্থানীয়  মানুষের জীবন-জীবিকার   বিষয়টিও  সমান   গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।  সাম্প্রতিক সময়ে  মাতারবাড়ির কয়েকটি গ্রামে ভাঙন  ও  বসতভিটা  হারানোর  পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ফলে বড় প্রকল্পের পাশাপাশি বেড়িবাঁধের সুরক্ষা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের  পুনর্বাসন   এবং পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলার কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।  পরিবেশগত  প্রভাব  নিরূপণ  এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন  করা  গেলে  অর্থনৈতিক  অগ্রগতির  সুফল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
প্রত্যাশা   বাস্তবায়নে   প্রয়োজন    কার্যকর    উদ্যোগ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে মহেশখালীর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, সমন্বিত  পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ    বাস্তবায়ন    নিয়ে   আগ্রহ   তৈরি   হয়েছে। 
মহেশখালীর  মানুষের   প্রত্যাশা, গভীর সমুদ্রবন্দর ও অর্থনৈতিক   অঞ্চলকেন্দ্রিক   উন্নয়নের   সুফল   যেন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ   বসবাস  এবং  পরিবেশ   সুরক্ষার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত   হয়।    পরিকল্পিত    ও  জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়ন  নিশ্চিত  করা গেলে ধলঘাটা–মাতারবাড়ির উন্নয়ন   মহেশখালীসহ   দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।