বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও বাজেট সংকটের মধ্যে আগামী ১৯ অক্টোবর আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যবিষয়ক সম্মেলন কপ১৭। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃতির ক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা হবে এ সম্মেলনে।
জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কনভেনশনের নির্বাহী সচিব অ্যাস্ট্রিড শোমেকার বলেছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব প্রকৃতি রক্ষার আলোচনাতেও পড়ছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শোমেকার বলেন, সংঘাত, ঋণের বোঝা এবং সরকারের সীমিত সম্পদের ওপর নানা চাপ আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে কঠিন করে তুলছে। তবু প্রকৃতি রক্ষায় বহুপক্ষীয় উদ্যোগের কার্যকারিতা প্রমাণ করার জন্য এ ধরনের সংকটকালই গুরুত্বপূর্ণ।
২০২২ সালে গৃহীত বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামোর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃতি ধ্বংসের প্রবণতা থামাতে বিভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে স্থলভাগ ও সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ, দূষণ কমানো, ক্ষতিকর বহিরাগত প্রজাতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রাণী ও উদ্ভিদ রক্ষা। তবে প্রায় ২০০টি দেশ এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে এখনো প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
শোমেকারের মতে, অগ্রগতির চিত্র মিশ্র। কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও সামগ্রিকভাবে তা ধীরগতির এবং সব ক্ষেত্রে সমান নয়। এখনই কোনো লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, তা চূড়ান্তভাবে বলার সময় আসেনি। তবে যথেষ্ট পরিবর্তন আনা গেলে সব লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ এখনো রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
জীববৈচিত্র্য রক্ষার আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিও আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটি জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কনভেনশনের সদস্য নয় এবং এ-সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেয় না। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত, জ্বালানি ও পণ্যের উচ্চমূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক পরিবেশবিষয়ক উদ্যোগে প্রভাব ফেলতে পারে।
শোমেকার বলেন, প্রকৃতি রাজনৈতিক সীমান্ত মানে না। খাদ্য ও পানির নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো কোনো একটি দেশের পক্ষে এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ইয়েরেভেন সম্মেলনের আগে ২০৩০ সালের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যগুলো অর্জনে বিশ্বের অগ্রগতি নিয়ে একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সম্মেলনে সেই অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জীববৈচিত্র্য সম্মেলন, কপ১৭, প্রকৃতি সংরক্ষণ