আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২০২৬-১০-১১ ১২:০৩:৪৯
image

অধিকার,শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান
আজ ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং সব ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধের অঙ্গীকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর এক প্রস্তাবের মাধ্যমে দিবসটি ঘোষণা করে। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং তাদের সম্ভাবনা বিকাশে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১০ কোটি কন্যাশিশু মানবসম্পদ উন্নয়ন, সৃজনশীলতা ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। কিন্তু দারিদ্র্য, অপুষ্টি, শিক্ষার সীমিত সুযোগ, বাল্যবিবাহ এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এখনো বহু মেয়ের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটের সময় তাদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
দিবসটির পেছনে বেসরকারি সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ‘কারণ আমি একজন মেয়ে’ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে মেয়েদের অধিকার, শিক্ষা ও সামগ্রিক বিকাশের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই আন্দোলনটি গড়ে ওঠে।
কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে শুধু আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ, পুষ্টিকর খাবার, সহজলভ্য চিকিৎসা, জন্মনিবন্ধন, আইনি সুরক্ষা এবং পরিবার ও সমাজে সমান মর্যাদা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি অনলাইন ও বাস্তব জীবনে হয়রানি এবং নির্যাতন থেকে সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে মেয়েদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, নিজেদের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি এবং নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। কারণ, কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন কেবল তার ব্যক্তিগত অগ্রগতি নয়; এটি একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস তাই কেবল উদ্‌যাপনের দিন নয়, অধিকার ও দায়িত্বের হিসাব মেলানোরও উপলক্ষ। প্রতিটি মেয়ে যেন ভয় নয়, সম্ভাবনা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে-এমন পরিবেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত দিবসটির মূল অঙ্গীকার।

কন্যাশিশুর অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সমান সুযোগ