আমি সেই মানুষ নই,
যে তোমার আকাশ খুঁড়ে
মেঘের নিচে চাপা পড়ে থাকা সূর্য খুঁজবে।
আমি বরং সেই হারিয়ে যাওয়া বিকেল,
যার কাছে ফিরতে গেলে
তোমাকে নিজেরই কিছু ভুলে যাওয়া স্মৃতি
দু'হাতে তুলে নিতে হবে।
তুমি যখন হিমালয়ের বরফে
নিজের উত্তাপের শেষ চিহ্নটুকু খুঁজছ,
আমি তখন বঙ্গোপসাগরের তলদেশে
ডুবন্ত কোনো প্রাচীন জাহাজের মতো
তোমার নীরবতা বয়ে চলেছি।
জানো,
কিছু সম্পর্কের কোনো জন্মদিন থাকে না,
থাকে না বিচ্ছেদের নির্দিষ্ট তারিখও-
তারা শুধু মানুষের ভেতরে জন্ম নেয়,
তারপর একদিন মানুষকেই
তার নিজের কাছে অপরিচিত করে তোলে।
তুমি আমাকে খুঁজেছ
দেবদারুর দীর্ঘশ্বাসে,
তুষারপাতের অসহ্য শীতলতায়,
অথবা বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা
কোনো এক নিঃসঙ্গ ছাতার নিচে।
অথচ আমি ছিলাম তোমার সেই প্রশ্নে,
যার উত্তর জানার পরও
তুমি উত্তরটিকে বিশ্বাস করতে পারোনি।
আমার কাছে এসো না
কোনো পূর্বজন্মের প্রমাণ নিয়ে।
আমি জানি না, কোন জন্মে
তোমার হাত ছেড়ে দিয়েছিলাম,
কোন জন্মে তোমার জন্য
একটি পৃথিবী বানাতে গিয়ে
নিজের পৃথিবী হারিয়েছিলাম।
শুধু জানি,
এই জন্মে তোমার চোখের দিকে তাকালে
আমার ভেতরে এমন এক দরজা খোলে,
যার ওপাশে কোনো ঘর নেই,
কেবল ফিরে আসার অসংখ্য পথ।
তুমি তাকে প্রেম বলতে পারো,
বিভ্রম বলতে পারো,
অথবা এমন কোনো অসুখ-
যার জন্য চিকিৎসক নয়,
প্রয়োজন হয় একটি নির্ভরযোগ্য অনুপস্থিতি।
কিন্তু শোনো,
সব আগুন শরীর পোড়ায় না,
কিছু আগুন মানুষকে চিনিয়ে দেয়
তার ভেতরে কতখানি অন্ধকার।
আর সব শীত মৃত্যুর পূর্বাভাস নয়,
কিছু শীত আসে
হৃদয়ের বহুদিন বন্ধ থাকা জানালায়
আবার কারও কড়া নাড়ার শব্দ হয়ে।
তাই যদি কোনোদিন
আমাকে আর কোথাও খুঁজে না পাও,
হিমালয়ের দিকে তাকিয়ো না,
বৃষ্টির কাছে জানতে চেয়ো না আমার নাম।
নিজের বুকের ভেতর কান পেতে দেখো-
যে দীর্ঘশ্বাসটি বেরিয়ে আসতে গিয়েও
বারবার ফিরে যাচ্ছে,
হয়তো সেইখানেই আমি আছি-
তোমার জীবনে না-ঘটা
অথচ কোনোদিন না-ভোলা
একটি অসমাপ্ত ঘটনার মতো।