আমি এক থালা ভাত চাইলাম ---
দিল মানুষের পচা মাংস,
ক্ষুধার কাছে মানুষ নাকি
এটাই নাকি অংশ।
জল চাইলাম - দিলো বিষের
কালো কালো ঢেউ,
বাঁচতে চেয়ে প্রশ্ন করলে
কেউ শুনলো না কেউ।
শিশুর হাতে বই ছিল না,
ছিল ভাঙা থালা,
পেটের আগুন জ্বলে উঠে ও
হাসে ক্ষুধার জ্বালা।
মায়ের চোখে ঘুম নেই কেন,
চোখে শুধুই ভয়,
চুলোর পাশে হাঁড়ি কাঁদে --
ভাতের দেখা কই?
শ্রমিক ঘাম ঝরায় সারাদিন,
মজুরি তার ক্ষীণ,
অট্টলিকা আকাশ ছোঁয়--
তারও ঘরে থাকে ঋণ।
কেউ সাজে রঙিন আলোয়,
কেউ রাত কাটায় ক্ষুধায়,
একই দেশের দুইটি জীবন ---
একটি হাসে, একটি কাঁদায়।
ন্যায়ের কথা বললে কেন,
ঠোঁটে মারে তালা।
সত্য বলার অপরাধে কেন
জ্বলে মানুষের জ্বালা?
তাই আমি আজ কঙ্কাল হাতে
রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলি ---
মানুষ যদি মানুষ না হয়,
সভ্যতা কাকে বলে?
জীবনের আরেক নাম আজ
শুধুই যেন কঙ্কাল,
তবু বুকের ভেতর জাগে
প্রতিবাদের মশাল।
আমাকে জিজ্ঞেস করলো -তুমি কি হিন্দু?
তুমি কি খ্রিষ্টান? তুমি কি মুসলিম?
উত্তরে বললাম,
আজ আমি ক্ষুধার্ত কঙ্কাল।
যেদিন ক্ষুধার থালায় উঠবে
শ্রমের ন্যায্য ভাত,
সেদিন সত্যিই মানুষ হবে
এই পৃথিবীর রাত।
সেদিন কোনো শিশুর চোখে,
থাকবো না ক্ষুধার জ্বালা,
মানুষ হবে মানুষের পাশে ---
সেদিন ক্ষুধার কান্না থামবে
থামবে চোখের জল,
সেদিন বলবো - মানুষ সত্যি
মানুষ হয়েছি সফল।