যে পথে মানুষের চলাচল, সে পথ চেনা হলেও ধূলিধূসর
কোলাহল পূর্ণ এ পথ পরিচিত মুখের ভিড়ে অনেকটাই নিরাপদ।
সবাই সে-পথে নিশ্চিন্তে হাঁটে।
আমি সেই পথের পাশে দাঁড়িয়ে বহুদিন দেখেছি
মানুষ যাচ্ছে তো যাচ্ছেই।
তাদের চোখেমুখে ব্যস্ততার ছাপ যেন পৌঁছাতে হবে কোথাও,
যদিও গন্তব্যটা ঠিক কোথায় তা তারা জানে না।
আমি হাঁটিনি সেই পথে
আমার পা বেছে নিয়েছে অন্য এক পথ
যেখানে পথ বন্ধুর, শুধু ঘাসের ভেতর চাপা অচেনা রেখা।
কোথাও কাঁটা, কোথাও নরম কাদামাটি।
হাঁটতে গিয়ে আমি হোঁচট খেয়ে আবার ফিরে তাকিয়েছি
ভেবেছি যদি ওই চেনা পথে যেতাম, হয়তো এতটা একা লাগতো না।
কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই একাকিত্বের মধ্যেই
আমি নিজের চলার শব্দ শুনতে পেয়েছি।
মানুষের পথে হাঁটিনি বলেই হয়তো আমি মানুষের মতো হয়ে উঠিনি পুরোপুরি
একটু ভিন্ন, একটু অসম্পূর্ণ আর প্রশ্নবোধক।
তবু এই না-হাঁটা পথটাই আমাকে দিয়েছে চলার গতি,
যেখানে ভিড় নেই, তবু নিঃসঙ্গতাও পুরোটা শূন্য নয়।
কখনো মনে হয়, যারা সেই পথে হেঁটে গেছে,
তারা কি আমার এই পথটা দেখেছে ?
তারা কি বুঝতে পেরেছে - সব পথ এক নয়,
আর সব গন্তব্যও নির্দিষ্ট রেখায় চলে না।
আমি এখনো হাঁটছি একটা নামহীন পথে
যার শেষ কোথায় জানি না।
শুধু জানি এই পথটাই আমার নিজস্ব
এ' পথেই আমার জীবনের গল্প লেখা হয়।