সখিপুরে স্বামী-দেবরের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, বিচার চেয়ে অসহায় গৃহবধূ

  • ‎জাহিদুল ইসলাম,
  • ২০২৬-১০-০৬ ২২:১৮:২৭
image

‎সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
‎‎সখিপুরে স্বামী ও দেবরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত, অ্যাসিড নিক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন শান্তা আক্তার নামে এক গৃহবধূ। সম্প্রতি স্বামীর তালাকের পর আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন দাবি করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
‎‎শান্তা আক্তার সখিপুর উপজেলার বানিয়ারসিট এলাকার হেকমত আলীর স্ত্রী। ২০০১ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে রয়েছে। শান্তার দাবি, বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর স্বামী স্বাভাবিক থাকলেও গত সাত-আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
‎‎অভিযোগে শান্তা বলেন, গত ১৯ আগস্ট সকালে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী হেকমত আলী তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। তাকে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং না গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।
‎‎একই দিন বিকেলে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ছোট ছেলে রাজন হোসেনের সামনে স্বামী তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন শান্তা। পরে বড় ছেলে তাকে উদ্ধার করে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
‎‎শান্তার অভিযোগ, এ ঘটনায় থানায় যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। পরে স্বামীর সঙ্গে আপসের জন্য জমি ও কাবিনের বিষয়ে সমঝোতার কথা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
‎‎শান্তা আরও অভিযোগ করেন, গত ১১ মার্চ তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তিনি পালিয়ে যাওয়ার সময় দেবর লতিফ মিয়া তার শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন বলে দাবি করেন। পরে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানান।
‎‎এ ছাড়া ১০ মার্চ তিনি টাঙ্গাইলে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর করে ঘর থেকে নগদ তিন লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‎‎দীর্ঘ ২৫ বছরের সংসারে নিজের বাবার বাড়ির ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সম্পদ বিক্রি করে প্রায় ৪১ লাখ ৭২ হাজার টাকা সংসারে ব্যয় করেছেন বলে দাবি করেন শান্তা। স্বামীর বাড়িতে ঘর নির্মাণ, গরু কেনা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনাসহ পারিবারিক কাজে এসব অর্থ ব্যয় করেছেন বলে জানান তিনি।
‎‎তার অভিযোগ, স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সংসারের খরচ দেন না। এ ছাড়া দাম্পত্য জীবনে একাধিকবার বিবাহ ও সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‎‎শান্তা অভিযোগ করেন, তার বড় ছেলে সাব্বির তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি রাতে তাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে একটি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে মাদকাসক্তির অভিযোগে তাকে পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
‎‎সম্প্রতি স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন উল্লেখ করে শান্তা বলেন, বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। এক ভাইও মারা গেছেন। ফলে কোথাও যাওয়ার মতো জায়গা নেই তার।
‎‎তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এখন আমি অসহায়। আমি স্বামী ও দেবরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং ন্যায়বিচার চাই।