সাতক্ষীরার চাঞ্চল্যকর জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদসহ গ্রেপ্তার-২

  • এস এম মহিদার রহমান,
  • ২০২৬-১০-০৬ ২২:১০:৫১
image

সাতক্ষীরা : ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাতক্ষীরার চাঞ্চল্যকর কলেজ কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খাঁন হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা ও ডিবি পুলিশের একটি টিম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়া মানিকতলা এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দীনের ছেলে ও কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খান হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা  কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসান (২৬) এবং একই এলাকার মোঃ হুমায়ন কবিরের ছেলে অমিত হাসান শিপন (৩০)।  
পুলিশ জানায়, জাকারিয়া হত্যা কান্ডের পর থেকে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে আসামীরা সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ একটি আভিযানিক দল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আজ মঙ্গলবার ভোরে কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে এ হত্যা মামলার প্রধান আসামী কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানসহ উক্ত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।  
পুলিশ আরো জানায়, এর আগে গত শুক্রবার (২অক্টোবর) গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে কদম গাছ তলার নিচে রবিউলের চায়ের দোকানে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদসহ তার বাহিনীর সদস্যরা সেখানে চা খেতে আসে। তারা এসময় তাদেরকে দ্রুত চা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রবিউলের সাথে তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাচ করতে থাকে। এসময় রবিউলের প্রতিবেশী ভাইপো বাপ্পী হাসান এর প্রতিবাদ করলে তারা বাপ্পীকে মারপিট ও মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় শহরের কাটিয়া এলাকার আব্দুল গফুর খাঁনের ছেলে কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খাঁন (১৯) ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বাপ্পীকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তারা তাকে পরিকল্পিতভাবে এলাপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে এবং কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসান হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে জাকারিয়ার বামপাশের বুকে খোঁচা মেরে মারাত্নক জখম করে। এতে সাথে সাথে জাকারিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় চা দোকানী রবিউলসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ও পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত ঘোষনা করেন। এরপর থেকে ঘাতক নাহিদসহ জড়িত সন্ত্রাসীরা সবাই পালিয়ে যায়। এদিকে, এ ঘটনার পরদিন শনিবার রাতে নিহত জাকারিয়ার ভাই মোঃ শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানকে প্রধান আসামী করে মোট ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৬/৭ জনের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই দিন ভোরে এ মামলার ২ নং আসামী একই এলাকার মৃত ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে মোহিত হাসান বনি (২০)কে গ্রেপ্তার করেন।
এ মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, শহরের ইটাগাছা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ আরিজুল ইসলাম (২৮), আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না (২৭), রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ জুয়েল (২৪), মোঃ হাসানের ছেলে মোঃ সাগর (২৩), মৃত ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে মোঃ রনি (৩০), শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে মোঃ সামি (২৪), জমিদার মুন্সির ছেলে মোঃ নাঈম (২২), নজরুল সরদারে ছেলে রাশিদুর জামান রাশেদ (৩০), মোঃ মিঠুর ছেলে মোঃ হুজাইফা (২০) ও মিজানুর রহমান মির্জার ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম শরিফ (২৮)।
এদিকে, সাতক্ষীরার সচেতন মহল কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানের গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, নাহিদ যাতে আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে এবং তাকে যেন সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় সে দাবী জানান প্রশাসন ও বিচারবিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে।  
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,  জানান, কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খাঁন হত্যা মামলার প্রধান আসামী নাহিদ হাসানসহ গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরো জানান, এনিয়ে এমামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য ঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ রমজান আলীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টার মামলা, শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরি দিয়ে জখম করে হত্যা চেষ্টার মামলা, বাঁকাল ইসলামপুর এলাকার এক যুবকের পিঠে ছুরি মেরে নির্মম আঘাত করাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি মারা ও আঙুল কেটে নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে হাফ ডজনেরও বেশী মামলা রয়েছে।